পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার প্রত্যয়ে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছে এক অভিনব ময়লা কুড়ানোর প্রতিযোগিতা, যার নাম ‘ডিএনসিসি স্পোগোমি গেম ২০২৬’। গত রোববার রাজধানীর উত্তরখানে বজলুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ‘ওয়ান ব্যাগ ট্রাশ’-এর সহযোগিতায় এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ঢাকার ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি মানুষ বসবাস করায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতেই ‘স্পোগোমি গেম’-এর মতো আয়োজন অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও যোগ করেন, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বর্জ্য পৃথকীকরণ বা ‘ওয়েস্ট সেগ্রিগেশন’ সম্পর্কে জানতে পারবে। ছোটবেলা থেকেই যদি তাদের মধ্যে এই অভ্যাস গড়ে ওঠে, তবে তাদের হাত ধরেই একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ ঢাকা নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
এই প্রতিযোগিতায় ৩৪টি দলের মোট ১৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বর্জ্যকে দাহ্য, অদাহ্য, প্লাস্টিক বোতল এবং সিগারেটের বর্জ্য—এই চারটি প্রধান ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য আলাদা পয়েন্ট নির্ধারিত ছিল এবং সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ময়লা সংগ্রহের জন্য ৩০ মিনিট এবং সংগৃহীত বর্জ্য পৃথকীকরণের জন্য ২০ মিনিট সময় পায়।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলে, “আমাদের চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার জন্য এটি সত্যিই একটি চমৎকার উদ্যোগ। এমন একটি কার্যক্রমে অংশ নিতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।” অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুন্তাসির মামুন, যিনি এই প্রতিযোগিতায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন, বলেন, “আমরা অনেক সময় যত্রতত্র ময়লা ফেলি, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সবাই যদি নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলতে অভ্যস্ত হয়, তবে বাংলাদেশ আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।”
কঠিন এই প্রতিযোগিতায় ৩০ মিনিটে সর্বমোট ২২ কেজি বর্জ্য সংগ্রহ করে প্রথম স্থান অর্জন করে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দল ‘৬বি২’।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান সহ ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রিপোর্টারের নাম 






















