ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের সন্তান হাসপাতালে, অর্থাভাবে চিকিৎসা অনিশ্চিত: মা-মেয়ের করুণ দিনযাপন

জুলাই অভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী রিটনের সন্তান তানিশা বেগম নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুরুতর ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হলেও অর্থাভাবে তার চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে নিহত রিটনের পরিবারের অর্থ সংকটে ওষুধ কেনা এবং খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ায় মা ও মেয়ের দিন কাটছে অনাহারে। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরকিং ২২ নং গ্রামের বাসিন্দা তানিশা বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে ভর্তির পর প্রথম দুই দিন বারান্দায় কাটাতে হয়েছে তানিশার পরিবারকে। এরপর চার দিন ধরে চিকিৎসা চললেও শিশুটির স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। বাড়ি থেকে আনা সামান্য অর্থও এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

তানিশার মা আফসানা বেগম জানান, মেয়ের চিকিৎসার জন্য হাতে কোনো টাকা নেই। সামান্য যা ছিল, তা দিয়ে ওষুধ কিনলে খাবার জোটে না, আবার খাবারের ব্যবস্থা করলে ওষুধের অভাবে চিকিৎসা থমকে যায়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এখন সবাই নির্বাচনী ব্যস্ততায় ডুবে আছে, আমাদের মতো অসহায়দের খোঁজ কেউ রাখছে না। অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে অনাহারে আর কষ্টে দিন কাটছে আমাদের।”

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমান চন্দ্র আচার্য জানান, শিশুটিকে গুরুতর ডায়রিয়া আক্রান্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল।

তানিশার মামা জুয়েল বলেন, “বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় তানিশার মা একাই মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়ভাবেও কোনো সহযোগিতা মিলছে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল, তার কিছুই আমরা পাইনি। স্বামী রিটনের মৃত্যুর পর থেকে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে স্কুল বোমা হামলা: ট্রাম্পের নিশানায় ইরান, কুর্দিদের প্রবেশে অনীহা

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের সন্তান হাসপাতালে, অর্থাভাবে চিকিৎসা অনিশ্চিত: মা-মেয়ের করুণ দিনযাপন

আপডেট সময় : ১০:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী রিটনের সন্তান তানিশা বেগম নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুরুতর ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হলেও অর্থাভাবে তার চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে নিহত রিটনের পরিবারের অর্থ সংকটে ওষুধ কেনা এবং খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ায় মা ও মেয়ের দিন কাটছে অনাহারে। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরকিং ২২ নং গ্রামের বাসিন্দা তানিশা বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে ভর্তির পর প্রথম দুই দিন বারান্দায় কাটাতে হয়েছে তানিশার পরিবারকে। এরপর চার দিন ধরে চিকিৎসা চললেও শিশুটির স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। বাড়ি থেকে আনা সামান্য অর্থও এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

তানিশার মা আফসানা বেগম জানান, মেয়ের চিকিৎসার জন্য হাতে কোনো টাকা নেই। সামান্য যা ছিল, তা দিয়ে ওষুধ কিনলে খাবার জোটে না, আবার খাবারের ব্যবস্থা করলে ওষুধের অভাবে চিকিৎসা থমকে যায়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এখন সবাই নির্বাচনী ব্যস্ততায় ডুবে আছে, আমাদের মতো অসহায়দের খোঁজ কেউ রাখছে না। অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে অনাহারে আর কষ্টে দিন কাটছে আমাদের।”

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমান চন্দ্র আচার্য জানান, শিশুটিকে গুরুতর ডায়রিয়া আক্রান্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল।

তানিশার মামা জুয়েল বলেন, “বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় তানিশার মা একাই মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়ভাবেও কোনো সহযোগিতা মিলছে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল, তার কিছুই আমরা পাইনি। স্বামী রিটনের মৃত্যুর পর থেকে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”