ঢাকা ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

নেত্রকোনা-৪: সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর বনাম জামায়াত জোটের হেলাল, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

হাওরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর (ধানের শীষ প্রতীক) এবং জামায়াত সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মোঃ আল হেলাল তালুকদারের (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) মধ্যে। উভয় পক্ষই এই আসন নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে মোঃ আল হেলাল তালুকদার ও তার ১০ দলীয় জোটের কর্মীরা হাওরের গ্রাম-গঞ্জে অবিরাম প্রচার চালাচ্ছেন। ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদার ২০০৬-০৭ সেশনে ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি ছিলেন। ২০০৮-১৩ সাল পর্যন্ত তিনি দিগন্ত টিভির নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত এই তরুণ রাজনীতিবিদ আওয়ামী সরকারের পতন আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ভোটের মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

আল হেলাল তালুকদার বলেন, “আমরা জনগণের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তন চায়। মাদক কারবারি, চাঁদাবাজদের সাধারণ জনগণ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরাই বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ্।”

অন্যদিকে, বিএনপির হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। ১৯৯১ সালে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ সালে পুনরায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে চারদলীয় জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছিলেন, যেখানে বিএনপির দলীয় প্রার্থী অনেক পিছিয়ে ছিলেন।

আওয়ামী সরকারের আমলে বাবর একাধিক মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবন্দী ছিলেন। ওই সময় স্থানীয় বিএনপির নেতৃত্ব দেন তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শ্রাবণী বিএনপির হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এবার ধানের শীষকে বিজয়ী করতে লুৎফুজ্জামান বাবরের পাশাপাশি তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণীও মাঠে নেমেছেন।

বিভিন্ন পথসভায় বাবর বলেছেন যে, তিনি নির্বাচিত হলে তরুণদের বেকারত্ব দূর করতে সবার আগে কাজ করবেন। তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যক্তি থেকে শুরু করে পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়, তাই তিনি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন এবং মাদক কারবারিদের পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিতে সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত দিনে নেত্রকোনা-৪ আসনে কেবল বিএনপির নয়, বরং ব্যক্তি লুৎফুজ্জামান বাবরের জনপ্রিয়তার কারণেই ধানের শীষ বিজয় লাভ করেছে। তাদের ধারণা, এ আসনে বাবর ছাড়া অন্য কেউ ধানের শীষের টিকেট পেলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক প্রার্থী আল হেলাল তালুকদারের বিজয় নিশ্চিত ছিল।

এ আসনে জামায়াত ও বিএনপি ছাড়াও সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য জলি তালুকদার, ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার এবং ইসলাম আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ মুখলেছুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে, মূল লড়াই হবে জামায়াত ও বিএনপির দুই প্রার্থীর মধ্যেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসী সূর্যকুমার: চাপ সামলাতে প্রস্তুত ভারত

নেত্রকোনা-৪: সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর বনাম জামায়াত জোটের হেলাল, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

আপডেট সময় : ১০:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

হাওরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর (ধানের শীষ প্রতীক) এবং জামায়াত সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মোঃ আল হেলাল তালুকদারের (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) মধ্যে। উভয় পক্ষই এই আসন নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে মোঃ আল হেলাল তালুকদার ও তার ১০ দলীয় জোটের কর্মীরা হাওরের গ্রাম-গঞ্জে অবিরাম প্রচার চালাচ্ছেন। ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদার ২০০৬-০৭ সেশনে ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি ছিলেন। ২০০৮-১৩ সাল পর্যন্ত তিনি দিগন্ত টিভির নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত এই তরুণ রাজনীতিবিদ আওয়ামী সরকারের পতন আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ভোটের মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

আল হেলাল তালুকদার বলেন, “আমরা জনগণের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তন চায়। মাদক কারবারি, চাঁদাবাজদের সাধারণ জনগণ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরাই বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ্।”

অন্যদিকে, বিএনপির হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। ১৯৯১ সালে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ সালে পুনরায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে চারদলীয় জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছিলেন, যেখানে বিএনপির দলীয় প্রার্থী অনেক পিছিয়ে ছিলেন।

আওয়ামী সরকারের আমলে বাবর একাধিক মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবন্দী ছিলেন। ওই সময় স্থানীয় বিএনপির নেতৃত্ব দেন তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শ্রাবণী বিএনপির হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এবার ধানের শীষকে বিজয়ী করতে লুৎফুজ্জামান বাবরের পাশাপাশি তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণীও মাঠে নেমেছেন।

বিভিন্ন পথসভায় বাবর বলেছেন যে, তিনি নির্বাচিত হলে তরুণদের বেকারত্ব দূর করতে সবার আগে কাজ করবেন। তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যক্তি থেকে শুরু করে পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়, তাই তিনি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন এবং মাদক কারবারিদের পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিতে সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত দিনে নেত্রকোনা-৪ আসনে কেবল বিএনপির নয়, বরং ব্যক্তি লুৎফুজ্জামান বাবরের জনপ্রিয়তার কারণেই ধানের শীষ বিজয় লাভ করেছে। তাদের ধারণা, এ আসনে বাবর ছাড়া অন্য কেউ ধানের শীষের টিকেট পেলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক প্রার্থী আল হেলাল তালুকদারের বিজয় নিশ্চিত ছিল।

এ আসনে জামায়াত ও বিএনপি ছাড়াও সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য জলি তালুকদার, ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার এবং ইসলাম আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ মুখলেছুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে, মূল লড়াই হবে জামায়াত ও বিএনপির দুই প্রার্থীর মধ্যেই।