চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। হাইকোর্টের আদেশে স্বপদে ফিরে আসা চেয়ারম্যানকে ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশে বাধা, অফিস ভাঙচুর এবং মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে সম্মিলিত এলাকাবাসীর ব্যানারে এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিএনপির একটি অংশ ও জামায়াতের যৌথ নেতৃত্বে কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজিমের বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ এনে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বিভিন্ন শ্লোগান দেন।
বিএনপির সাবেক সভাপতি নুর হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জালাল উদ্দীন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস মুন্সি স্বপদে ফিরে আসেন। নিয়ম অনুযায়ী তিনি ইউনিয়ন পরিষদে তার দায়িত্ব পালন ও নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য গেলে, কথিত বিএনপি নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালী দেলোয়ার আজিমের অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে মব সন্ত্রাস চালায়। তাদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানকে পরিষদে ঢুকতে বাধা প্রদান, তার ব্যক্তিগত অফিসে হামলা, ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভবিষ্যতে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে কোনো বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজিম ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী (ইউনুস মুন্সি) একটি কাগজ নিয়ে পরিষদ দখল করতে এলে স্থানীয় জনতা তাকে প্রতিহত করে। তিনি আরও জানান, তিনি ঘটনার সময় চট্টগ্রামে ছিলেন এবং এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
জানা যায়, বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুসকে তার পদে বহাল করার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন তা কার্যকর করেনি। বরং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী মাত্র ৭৭ ভোটে বিএনপির প্রার্থী দেলোয়ার আজিমকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং সরকার পতনের পরও তিনি অফিসেই সক্রিয় ছিলেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদে এক বৈঠকের পর বাড়ি ফেরার পথে কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও তাকে আটক করা হয়। পরে জামিনে মুক্তি পান। দায়িত্ব পুনর্বহালের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানালেও কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। হাইকোর্ট শুনানি শেষে চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের আবেদনটি ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই আদেশ কার্যকর না করে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে বাহারছড়া ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরাজিত প্রার্থী দেলোয়ার আজিম সরকার পরিবর্তনের পর ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তার করে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করছেন। রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাজু বলেন, “হাইকোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আবেদন নিষ্পত্তি না করা এবং ভিন্ন ব্যক্তি নিয়োগ দেওয়া আদালত অবমাননার শামিল।” চেয়ারম্যান রেজাউল করিমও হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “হাইকোর্টের আদেশ থাকা সত্ত্বেও আমাকে দায়িত্বে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না—এটি অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাহারছড়া ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 


















