পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে জলদস্যু বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার রাতে বনের মাহমুদা নদী, চুনকুড়ি ও মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অস্ত্রধারী দস্যুরা অন্তত ২০ জন জেলেকে অপহরণ করেছে। অপহৃতদের মুক্তির বিনিময়ে ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দেওয়া ওই দস্যু দলটি জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে আট সদস্যের একটি সশস্ত্র দস্যু দল সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। তারা ২০টি মাছ ধরার নৌকা থেকে একজন করে জেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়। ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছেন, দস্যুরা একটি মুঠোফোন নম্বর দিয়ে অপহৃতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। এই দস্যু দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভেটো সফিকুল ও শাহাজান নামে দুই ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, তারা এর আগে র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিলেও গত তিন মাস ধরে পুনরায় ‘ডন বাহিনী’ গঠন করে সুন্দরবনে দস্যুবৃত্তি শুরু করেছেন।
অপহৃত জেলেদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—সাদেক আক্কাছ, আবু তাহের, রাজেত আলী, নজরুল গাইন, শুকুর আলী, আবুল কালাম, আশিকুল, হাফিজুর, আসাদুল, আমজাদ আলী, ইউসুফ আলী ও মিলন হোসেন। তারা সবাই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। বাকি আটজনের নাম-পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত জেলেরা প্রায় এক সপ্তাহ আগে কদমতলা স্টেশন থেকে বৈধ অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন।
এদিকে অপহরণের পর থেকে অপহৃতদের পরিবারগুলোতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বজনরা জানিয়েছেন, দস্যুদের দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ না দিলে জেলেদের হত্যা করা হবে। এমনকি বিষয়টি পুলিশ বা কোস্টগার্ডকে জানালে পরিণাম ভয়াবহ হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রাণভয়ে অনেক পরিবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে না গিয়ে গোপনে দস্যুদের সঙ্গে আপসের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় জলদস্যুদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। হরিনগর গ্রামের ব্যবসায়ী ও মহাজনরা জানিয়েছেন, দস্যু দমনে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে বনজীবী ও জেলেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে সুন্দরবনের কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, তার স্টেশন থেকে অনুমতি নিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকজন জেলে দস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























