আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী-মধুখালী) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় নিয়েছে। আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির একটি বড় অংশ দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পরিবর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনের প্রতি তাদের আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করেছে।
শুক্রবার রাতে আলফাডাঙ্গা হাসপাতাল রোডে অবস্থিত উপজেলা বিএনপির একাংশের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনের উপস্থিতিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা তার ‘জাহাজ’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ সময় আরিফুর রহমান দোলন উপস্থিত নেতা-কর্মীদের নির্বাচনের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
দলীয় প্রার্থীর বলয় থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়া এই সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খোশবুর রহমান খোকন, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রেজা, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরব আলী এবং পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি কাইয়ুম শিকদার। এ ছাড়াও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, পাচুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাজান সরদার ও সিরাজুল ইসলাম সোজাসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা এতে অংশ নেন।
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থনের কারণ হিসেবে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খোশবুর রহমান খোকন জানান, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে মনোনীত প্রার্থী তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ রক্ষা করেননি। দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং সমন্বয়হীনতার কারণেই তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে, নিজ দলের একাংশের এমন ভূমিকার বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, যারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন তারা দীর্ঘ দিন ধরেই দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। এই বিদ্রোহী অংশের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি দলের হাইকমান্ডের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
তৃণমূলের এই বিভক্তি ফরিদপুর-১ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 























