ঢাকা ১০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

রংপুর জনসভায় এটিএম আজহারুল ইসলাম: দেশকে এগিয়ে নিতে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৮:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে আসন্ন নির্বাচনে দশ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর টাউন হল মাঠে ১০ দলীয় জোট আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দশ দলীয় জোটের প্রার্থীরা দেশপ্রেমিক এবং ইসলামের পক্ষের শক্তি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে যারা জীবন বাজি রেখে এ দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, সেই অগ্রসৈনিকরাই এই জোটের মূল কান্ডারী।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, একটি ফ্যাসিবাদী সরকার তাকে বিনা কারণে ১৪ বছর কারাবন্দী রেখেছিল এবং ফাঁসির মঞ্চে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। তিনি অন্যায়ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গত ২৪শে জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এবং দেশের তৌহিদি জনতা, ইসলামপ্রিয় মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় মহান আল্লাহ তাকে নতুন জীবন দান করেছেন। তিনি অঙ্গীকার করেন, যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন মানুষের কল্যাণে, ইসলামের পক্ষে এবং মানবতার সেবায় কাজ করে যাবেন।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামনে ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন এখনো সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কয়েক দফায় সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি কোনো মহল এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে বা বিগত সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, তাহলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবে না। কোনো অন্যায় নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না, দিনের ভোট রাতে হবে না এবং কেউ কেন্দ্র দখল করে সিল মারতে পারবে না। তিনি সবাইকে নির্ভয়ে ও নির্দ্বিধায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, পূর্বে দল-মত নির্বিশেষে সবাই এই সনদে একমত পোষণ করে স্বাক্ষর করেছিল। এখন সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের প্রয়োজন পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদের দোসর একটি পক্ষ প্রকাশ্যে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জুলাই সনদের বিরোধিতা করছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটেও ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে সিল মারার আহ্বান জানান তিনি।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে নায়েবে আমীর বলেন, একসময় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীপরিষদের সদস্য ছিলেন। তখন থেকে আজ পর্যন্ত তাদের কারো বিরুদ্ধে এক পয়সারও দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের অভিযোগ কেউ তুলতে পারেনি। কোনো নেতাকর্মীর নামে কখনো দুর্নীতির মামলা হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা দুর্নীতি করতে জানে না এবং ভবিষ্যতেও কাউকে দুর্নীতি করতে দেবে না। জামায়াতে ইসলামীর কাজ হলো মানুষের কল্যাণে কাজ করা, ইসলামের খেদমত করা এবং দেশকে এগিয়ে নিতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলা। জামায়াত কখনো কাউকে ভিন্ন চোখে দেখে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের কল্যাণে, ইসলামের পথে এবং ন্যায়ের জন্য যারা কাজ করবে, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি সাধারণ মানুষ তাদের পক্ষেই ভোট দেবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত্যুপুরী থেকে ফিরে আসা ৪ বাংলাদেশি বর্ণনা দিলেন সেই মিসাইল হামলার

রংপুর জনসভায় এটিএম আজহারুল ইসলাম: দেশকে এগিয়ে নিতে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান

আপডেট সময় : ১১:১৮:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে আসন্ন নির্বাচনে দশ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর টাউন হল মাঠে ১০ দলীয় জোট আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দশ দলীয় জোটের প্রার্থীরা দেশপ্রেমিক এবং ইসলামের পক্ষের শক্তি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে যারা জীবন বাজি রেখে এ দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, সেই অগ্রসৈনিকরাই এই জোটের মূল কান্ডারী।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, একটি ফ্যাসিবাদী সরকার তাকে বিনা কারণে ১৪ বছর কারাবন্দী রেখেছিল এবং ফাঁসির মঞ্চে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। তিনি অন্যায়ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গত ২৪শে জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এবং দেশের তৌহিদি জনতা, ইসলামপ্রিয় মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় মহান আল্লাহ তাকে নতুন জীবন দান করেছেন। তিনি অঙ্গীকার করেন, যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন মানুষের কল্যাণে, ইসলামের পক্ষে এবং মানবতার সেবায় কাজ করে যাবেন।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামনে ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন এখনো সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কয়েক দফায় সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি কোনো মহল এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে বা বিগত সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, তাহলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবে না। কোনো অন্যায় নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না, দিনের ভোট রাতে হবে না এবং কেউ কেন্দ্র দখল করে সিল মারতে পারবে না। তিনি সবাইকে নির্ভয়ে ও নির্দ্বিধায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, পূর্বে দল-মত নির্বিশেষে সবাই এই সনদে একমত পোষণ করে স্বাক্ষর করেছিল। এখন সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের প্রয়োজন পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদের দোসর একটি পক্ষ প্রকাশ্যে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জুলাই সনদের বিরোধিতা করছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটেও ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে সিল মারার আহ্বান জানান তিনি।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে নায়েবে আমীর বলেন, একসময় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীপরিষদের সদস্য ছিলেন। তখন থেকে আজ পর্যন্ত তাদের কারো বিরুদ্ধে এক পয়সারও দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের অভিযোগ কেউ তুলতে পারেনি। কোনো নেতাকর্মীর নামে কখনো দুর্নীতির মামলা হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা দুর্নীতি করতে জানে না এবং ভবিষ্যতেও কাউকে দুর্নীতি করতে দেবে না। জামায়াতে ইসলামীর কাজ হলো মানুষের কল্যাণে কাজ করা, ইসলামের খেদমত করা এবং দেশকে এগিয়ে নিতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলা। জামায়াত কখনো কাউকে ভিন্ন চোখে দেখে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের কল্যাণে, ইসলামের পথে এবং ন্যায়ের জন্য যারা কাজ করবে, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি সাধারণ মানুষ তাদের পক্ষেই ভোট দেবে।