শরীয়তপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে সংস্কার কাজ। সড়কের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের এই চিত্র এখন ভয় ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আটটি বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ না করেই সড়ক প্রশস্তকরণ ও চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে চালক, যাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুর জেলা শহর থেকে ঢাকায় নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২০ সালে ২৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। ভূমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণ ব্যয়সহ মোট প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি জেলার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। তবে, নানা জটিলতার কারণে গত সাত বছর ধরে প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে।
বর্তমানে সড়কটি ৩৪ ফুট প্রশস্ত করা হচ্ছে। এই অবস্থায় সড়কের মাঝে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিগুলো অপসারণ করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বাস্তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় এক মাস আগে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে লিখিতভাবে খুঁটি সরানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়াও একাধিকবার মৌখিকভাবেও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায়, বাধ্য হয়েই খুঁটি রেখেই সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে। জাজিরা উপজেলার বাসিন্দা মান্নান শেখ ও শুক্কুর ফকির বলেন, “দীর্ঘদিন পর সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি। কিন্তু জাতীয় সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে কাজ চললে তা ভয়াবহ বিপদের কারণ হবে। এখনই এগুলো না সরালে পরে কেউ আর গুরুত্ব দেবে না।”
চালক শ্রেণির আশঙ্কাও একই রকম। প্রাইভেটকার চালক শহিদুল ইসলাম জানান, “দেশের অনেক জাতীয় সড়কে গাড়ি চালিয়েছি, কিন্তু জাতীয় সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে কাজ চলছে—এমন দৃশ্য আগে দেখিনি। এখানে গাড়ির গতি বেশি থাকে, ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও অনেক বেশি।”
জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান বলেন, “বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণের জন্য এক মাস আগেই পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মৌখিকভাবেও একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা ভেবে বাধ্য হয়েই কাজ শুরু করতে হয়েছে।”
এ বিষয়ে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আলতাফ হোসেন জানান, “যে ঠিকাদারদের মাধ্যমে খুঁটি সরানোর কথা ছিল, তারা পালিয়ে গেছে। তবে নতুন একজন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খুঁটি সরানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
রিপোর্টারের নাম 























