ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চলছে: জামায়াত আমির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

অতীতে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মতো বর্তমানেও সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন কার্ড ও ফ্ল্যাটের প্রলোভন দেখিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণকে তুষ্ট করতে নানা সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শুক্রবার সকালে উত্তরবঙ্গের নির্বাচনী সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করার আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে আয়োজিত জনসভাগুলোতে অংশ নিতে এই সফর করছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি, মানুষকে এখনই ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার মতো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা কোনোভাবেই চোরাপথে ক্ষমতা দখল বা জনগণের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করাকে সমর্থন করি না।” ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপপ্রচার চালানো হচ্ছে কি না, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।

নির্বাচনী প্রচারণায় স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন সাধারণ মানুষের বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে? তিনি বলেন, “আমরা মানুষকে কেনা-বেচার রাজনীতি করি না, বরং মানুষের জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করি। যারা নিজেরা এসব অনৈতিক কাজে লিপ্ত, তারা এখন অন্যদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন।”

বিগত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জাতির ওপর ঋণের বিশাল বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষিত যুবসমাজের বেকারত্ব এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তার অভাবকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এসব সংকট মোকাবিলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত একে অপরকে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে নিজ নিজ কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, জনগণের রায়কে সবার শ্রদ্ধা করা উচিত। একইসঙ্গে রাষ্ট্রের কোনো স্তরের কর্মকর্তা বা কর্মচারী যেন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা না করেন, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দীর্ঘ আন্দোলনের পর প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে অনেক জায়গায় এখনো ব্যালট পেপার পৌঁছায়নি বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সময় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেন ভোট প্রদান ও ব্যালট ফেরত আসা নিশ্চিত হয়, সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।” তিনি প্রবাসীদের প্রতি তাদের পবিত্র আমানত হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যারা পরিবর্তন চান, তারা যেন গণভোটে ইতিবাচক রায় প্রদান করেন। তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা একা নই, বরং দেশপ্রেমিক ও ইসলামী দলগুলোকে সাথে নিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমাদের এবারের স্লোগান—‘চলে একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’।”

সবশেষে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্মরণীয় নির্বাচন উপহার দিতে দেশের যুবসমাজকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান জামায়াত আমির। সংবাদ সম্মেলনে তার সাথে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চলছে: জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ১০:০১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

অতীতে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মতো বর্তমানেও সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন কার্ড ও ফ্ল্যাটের প্রলোভন দেখিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণকে তুষ্ট করতে নানা সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শুক্রবার সকালে উত্তরবঙ্গের নির্বাচনী সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করার আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে আয়োজিত জনসভাগুলোতে অংশ নিতে এই সফর করছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি, মানুষকে এখনই ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার মতো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা কোনোভাবেই চোরাপথে ক্ষমতা দখল বা জনগণের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করাকে সমর্থন করি না।” ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপপ্রচার চালানো হচ্ছে কি না, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।

নির্বাচনী প্রচারণায় স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন সাধারণ মানুষের বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে? তিনি বলেন, “আমরা মানুষকে কেনা-বেচার রাজনীতি করি না, বরং মানুষের জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করি। যারা নিজেরা এসব অনৈতিক কাজে লিপ্ত, তারা এখন অন্যদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন।”

বিগত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জাতির ওপর ঋণের বিশাল বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষিত যুবসমাজের বেকারত্ব এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তার অভাবকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এসব সংকট মোকাবিলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত একে অপরকে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে নিজ নিজ কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, জনগণের রায়কে সবার শ্রদ্ধা করা উচিত। একইসঙ্গে রাষ্ট্রের কোনো স্তরের কর্মকর্তা বা কর্মচারী যেন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা না করেন, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দীর্ঘ আন্দোলনের পর প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে অনেক জায়গায় এখনো ব্যালট পেপার পৌঁছায়নি বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সময় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেন ভোট প্রদান ও ব্যালট ফেরত আসা নিশ্চিত হয়, সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।” তিনি প্রবাসীদের প্রতি তাদের পবিত্র আমানত হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যারা পরিবর্তন চান, তারা যেন গণভোটে ইতিবাচক রায় প্রদান করেন। তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা একা নই, বরং দেশপ্রেমিক ও ইসলামী দলগুলোকে সাথে নিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমাদের এবারের স্লোগান—‘চলে একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’।”

সবশেষে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্মরণীয় নির্বাচন উপহার দিতে দেশের যুবসমাজকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান জামায়াত আমির। সংবাদ সম্মেলনে তার সাথে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।