১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে কর্মরত নিজ দেশের কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারত। মূলত ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণ দেখিয়ে গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এই জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নয়াদিল্লি। শুধু পরিবার সরিয়ে নেওয়াই নয়, দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর ঢাকাকে ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ বা পরিবার নিয়ে থাকার অনুপযোগী দেশ হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কাতারেই চলে এলো বাংলাদেশের বর্তমান কূটনৈতিক মর্যাদা, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান হুমকি এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে সহকারী হাইকমিশনে পাথর নিক্ষেপ এবং শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতা ভারতের উদ্বেগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতীয় কূটনীতিকদের ভাষ্যমতে, ঢাকায় মিশনের সামনে গত কয়েকমাসে অন্তত দুই ডজন বিক্ষোভ হয়েছে, যা কূটনীতিকদের সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার স্বামী বা স্ত্রী বাংলাদেশে অবস্থান করবেন, তবে শিশুদের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না মোদি সরকার।
ভারতের এই পদক্ষেপে অন্তর্বর্তী সরকার ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন একে ‘অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন যে, কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ—এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আইসিসির অনড় অবস্থানের পর এই সিদ্ধান্ত ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন ফাটল তৈরি করেছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ ঘোষণা করার অর্থ হলো ভারত বর্তমানে বাংলাদেশকে একটি দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীল অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতের এমন অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























