সোমবার (২৭ অক্টোবর) ভারতের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইট (৬ই ১৭০৩) কলকাতা থেকে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গুয়াংঝুতে পৌঁছেছে। দীর্ঘ বিরতির পর এই ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার পথে একটি বড় প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দুই দেশের বাণিজ্যের জন্য এই পদক্ষেপ খুবই জরুরি ছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।
ভারত সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ফ্লাইট চালুর ফলে ‘দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ অনেক সহজ হবে’ এবং এটি ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার’ ক্ষেত্রেও সাহায্য করবে।
রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতা বিমানবন্দরে এই সরাসরি ফ্লাইট চালুর মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এয়ারলাইনের কর্মীরা পিতলের প্রদীপ জ্বালিয়ে উদযাপন করেন। ঠিক সেই সময় যাত্রীরা তাদের চেক-ইন সারছিলেন।
বিমানবন্দরে উপস্থিত চীনের একজন সিনিয়র কনস্যুলার কর্মকর্তা কিন ইয়ং সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারত-চীন সম্পর্কের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
একজন যাত্রী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় মালামাল পরিবহন এবং যাতায়াতের সময়—দুটিই এখন অনেক বেঁচে যাবে।
২০২০ সালের শুরুতে কোভিড মহামারি দেখা দিলে দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর হিমালয়ের বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে দুই দেশের সম্পর্ক এতটাই খারাপ হয় যে, ফ্লাইট আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
তবে গত কয়েক বছর ধরে দেশ দুটি ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করছিল। গত বছর তারা সীমান্ত টহল নিয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতেও পৌঁছেছে।
দীর্ঘ সাত বছর পর গত আগস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীন সফর করেন। একই মাসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইও ভারতে এসেছিলেন।
ভারত এরই মধ্যে চীনা পর্যটকদের জন্য আবারও ভিসা দেওয়া শুরু করেছে।
চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসও আগামী নভেম্বর মাস থেকে সাংহাই ও দিল্লির মধ্যে নতুন একটি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বসিয়েছেন। এই নিয়ে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের সম্পর্কে একটা টানাপোড়েন চলছে। এমন এক সময়েই দিল্লি ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক আবারও উষ্ণ হতে শুরু করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























