ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আশুলিয়ায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ, পুড়ল বাস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০২:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার আশুলিয়ার খাগান এলাকাটি গতরাতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেখানে রাতভর প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় বিভিন্ন জায়গায় আগুনও ধরিয়ে দেয়। রোববার (২৬ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ভোর সাড়ে চারটা পর্যন্ত এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে হামলা, ভাঙচুর আর আগুন লাগানোর মতো অনেক ঘটনা ঘটে। এই তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সিটি ইউনিভার্সিটির। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, এমন পরিস্থিতিতে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সাহায্য পাননি।

যারা ঘটনাটি সরাসরি দেখেছেন, সেই সব শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সূত্রপাত হয় সন্ধ্যায়। ব্যাচেলর প্যারাডাইস হোস্টেলের সামনে সিটি ইউনিভার্সিটির এক ছাত্র মোটরসাইকেলে বসে থুথু ফেললে তা ড্যাফোডিলের এক ছাত্রের গায়ে গিয়ে পড়ে। এই সামান্য ঘটনা থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এর জের ধরে রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় ৪০-৫০ জন ছাত্র দেশীয় অস্ত্র আর ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিলের ছাত্রদের মেসে হামলা করে এবং ভাঙচুর চালায়। এই হামলার ভিডিও দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক হাজারেরও বেশি ছাত্র একজোট হয়ে সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেধে যায়। খবর পেয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসলেও তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি। রাত ১২টার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ড্যাফোডিলের ছাত্ররা সিটি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সেখানকার শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা প্রশাসনিক ভবনে হামলা করে কম্পিউটারসহ অনেক দরকারি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এই সময় তিনটি বাস ও একটি প্রাইভেটকারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আরও পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ভোরের দিকে ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা হয়। এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত পঞ্চাশ জন ছাত্র আহত হয়েছেন। ভোর ৫টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্র জানান, তখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি জায়গায় আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছিল। প্রশাসনের লোকজন চেষ্টা করেও দুই দলের ছাত্রদের থামাতে পারছিলেন না, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিলই। চরম উত্তেজনার মধ্যেই তারা গাড়িগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সাভার থানার ডিউটি অফিসার এসআই হাবিবুর রহমান শুধু বলেছেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।” তবে এই বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এক মাসেই ৯ বার কাঁপল বাংলাদেশ: ঘন ঘন ভূমিকম্পে বাড়ছে উদ্বেগ, প্রস্তুতিতে জোরের তাগিদ

আশুলিয়ায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ, পুড়ল বাস

আপডেট সময় : ১১:০২:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকার আশুলিয়ার খাগান এলাকাটি গতরাতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেখানে রাতভর প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় বিভিন্ন জায়গায় আগুনও ধরিয়ে দেয়। রোববার (২৬ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ভোর সাড়ে চারটা পর্যন্ত এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে হামলা, ভাঙচুর আর আগুন লাগানোর মতো অনেক ঘটনা ঘটে। এই তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সিটি ইউনিভার্সিটির। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, এমন পরিস্থিতিতে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সাহায্য পাননি।

যারা ঘটনাটি সরাসরি দেখেছেন, সেই সব শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সূত্রপাত হয় সন্ধ্যায়। ব্যাচেলর প্যারাডাইস হোস্টেলের সামনে সিটি ইউনিভার্সিটির এক ছাত্র মোটরসাইকেলে বসে থুথু ফেললে তা ড্যাফোডিলের এক ছাত্রের গায়ে গিয়ে পড়ে। এই সামান্য ঘটনা থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এর জের ধরে রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় ৪০-৫০ জন ছাত্র দেশীয় অস্ত্র আর ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিলের ছাত্রদের মেসে হামলা করে এবং ভাঙচুর চালায়। এই হামলার ভিডিও দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক হাজারেরও বেশি ছাত্র একজোট হয়ে সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেধে যায়। খবর পেয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসলেও তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি। রাত ১২টার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ড্যাফোডিলের ছাত্ররা সিটি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সেখানকার শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা প্রশাসনিক ভবনে হামলা করে কম্পিউটারসহ অনেক দরকারি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এই সময় তিনটি বাস ও একটি প্রাইভেটকারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আরও পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ভোরের দিকে ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা হয়। এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত পঞ্চাশ জন ছাত্র আহত হয়েছেন। ভোর ৫টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্র জানান, তখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি জায়গায় আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছিল। প্রশাসনের লোকজন চেষ্টা করেও দুই দলের ছাত্রদের থামাতে পারছিলেন না, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিলই। চরম উত্তেজনার মধ্যেই তারা গাড়িগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সাভার থানার ডিউটি অফিসার এসআই হাবিবুর রহমান শুধু বলেছেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।” তবে এই বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।