জাতীয় পার্টিকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, যারা ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে, দেশের সচেতন জনগণ আসন্ন নির্বাচনে তাদেরকেই চূড়ান্তভাবে ‘না’ বলে দেবে। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় পার্টি তাদের চিরাচরিত ফ্যাসিবাদী চরিত্র আবারও জাতির সামনে উন্মোচিত করেছে।
বুধবার দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে বের হওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আখতার হোসেন রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসন থেকে এনসিপি-র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয় পার্টির কঠোর সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, দলটি অতীতে স্বৈরাচারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এবং ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ সেজে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ শাসনে অংশ নিয়েছে। তারা চায় না বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামোর কোনো পরিবর্তন বা সংস্কার হোক। সেই পুরোনো মানসিকতা থেকেই তারা এখন জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে ‘না’ ভোটের পক্ষে সাফাই গাইছে। তবে জনগণ গণভোটকে নয়, বরং জাতীয় পার্টিকেই বর্জন করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি সদস্য সচিব বলেন, সম্প্রতি অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে র্যাব সদস্যের মৃত্যু এবং মিরপুরের হতাহতের ঘটনা জনমনে শঙ্কা তৈরি করেছে। তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার এই সময়ে যেন কোনো প্রার্থী বা সাধারণ ভোটারকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়। অতীতের নির্বাচনগুলোতে সাধারণ মানুষের ওপর যে নিপীড়ন ও হয়রানি হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি রোধে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
নির্বাচনী পরিবেশে ‘মামলা বাণিজ্য’ এবং প্রলোভন দেখিয়ে জনমত ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, আমরা চাই একটি সংঘাতমুক্ত নির্বাচন, যেখানে কোনো ভোটার বা প্রার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।
রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে দেশের মানুষ যে বৈষম্যমূলক ও নিপীড়নমূলক কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ ছিল, তা থেকে মুক্তি চায়। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ‘জুলাই সনদে’ রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। এনসিপিসহ সমমনা ১০টি দলের পক্ষ থেকে তিনি জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আখতার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে যেকোনো ধরনের ভয়ভীতি বা প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের অনুরোধ জানান। এর আগে, তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নির্বাচনী প্রতীক গ্রহণ করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























