সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিও বিতর্কের জেরে জামায়াতে ইসলামীর একজন স্থানীয় নেতা প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলত্যাগকারী ওই নেতার নাম মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি নূরনগর ইউনিয়নের হরিনাগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা এবং নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক ও যুব বিভাগের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্যের বিতর্কিত ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থান থেকে দেলোয়ার হোসেন জামায়াতের রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় তিনি এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে দল ত্যাগের ঘোষণা দেন।
এ সময় মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “সাম্প্রতিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। একজন কর্মী হিসেবে আমি এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারিনি। তাই বিবেকের তাড়না থেকে জামায়াতে ইসলামীর সব ধরনের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বেশ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী ও দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে কাজ করেছেন। তারা জানান, তারাও সাম্প্রতিক ঘটনায় মর্মাহত এবং এমপি সাহেবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী প্রমাণিত হলে যথাযথ বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, দেলোয়ার হোসেন তাদের ওয়ার্ড কমিটির একজন কর্মী ছিলেন। তবে তিনি বায়তুলমাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন কি না, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন। গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে এই ভিডিও বিতর্কের পর থেকে সাতক্ষীরা জেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যার ধারাবাহিকতায় নূরনগরের এই ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















