ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

রূপগঞ্জে জিয়াউল আহসানের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট সিলগালা করল প্রশাসন

দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রীর নামে থাকা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের একটি ফ্ল্যাট সিলগালা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে রূপগঞ্জ উপজেলার জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১২ নম্বর সেক্টরের একটি আটতলা ভবনে অবস্থিত এই ফ্ল্যাটটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আরডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে জলসিঁড়ি প্রকল্পের ৫০৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর প্লটে অবস্থিত ‘জয়িতা’ নামক ভবনটিতে তল্লাশি চালানো হয়। ভবনটির মালিক জিয়াউল আহসান হলেও সেখানে অন্যান্য ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া থাকায় শুধুমাত্র তার ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটটি সিলগালা করা হয়। এ সময় পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো দেলোয়ার হোসেন, সার্ভেয়ার আবুল হোসেন এবং স্থানীয় ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এনটিএমসির শীর্ষ পদে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বছরের ২৩ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক সালাউদ্দিন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে নিজ নামে প্রায় ২২ কোটি ২৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

মামলার নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া এই কর্মকর্তা তার ব্যাংক হিসাবে অনুমোদিত সীমার বাইরে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা রেখেছেন। এছাড়া তার আটটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার পদের প্রভাব খাটিয়ে স্ত্রীর সহযোগিতায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানান্তর এবং হস্তান্তর করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জিয়াউল আহসান ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার এই স্থাবর সম্পত্তি সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কম্বোডিয়ায় মানবপাচার: পাসপোর্ট-অর্থ আত্মসাৎ ও নির্যাতনের অভিযোগে মূলহোতা গ্রেপ্তার

রূপগঞ্জে জিয়াউল আহসানের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট সিলগালা করল প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৯:২৭:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রীর নামে থাকা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের একটি ফ্ল্যাট সিলগালা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে রূপগঞ্জ উপজেলার জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১২ নম্বর সেক্টরের একটি আটতলা ভবনে অবস্থিত এই ফ্ল্যাটটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আরডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে জলসিঁড়ি প্রকল্পের ৫০৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর প্লটে অবস্থিত ‘জয়িতা’ নামক ভবনটিতে তল্লাশি চালানো হয়। ভবনটির মালিক জিয়াউল আহসান হলেও সেখানে অন্যান্য ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া থাকায় শুধুমাত্র তার ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটটি সিলগালা করা হয়। এ সময় পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো দেলোয়ার হোসেন, সার্ভেয়ার আবুল হোসেন এবং স্থানীয় ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এনটিএমসির শীর্ষ পদে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বছরের ২৩ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক সালাউদ্দিন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে নিজ নামে প্রায় ২২ কোটি ২৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

মামলার নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া এই কর্মকর্তা তার ব্যাংক হিসাবে অনুমোদিত সীমার বাইরে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা রেখেছেন। এছাড়া তার আটটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার পদের প্রভাব খাটিয়ে স্ত্রীর সহযোগিতায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানান্তর এবং হস্তান্তর করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জিয়াউল আহসান ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার এই স্থাবর সম্পত্তি সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।