ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক লড়াই শুরু হলো সিলেটে। জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৩৩ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীদের হাতে এসব প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সিলেটে শুরু হলো ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা।
সিলেট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম প্রার্থীদের হাতে এসব নির্বাচনী প্রতীক হস্তান্তর করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি আসনের মধ্যে সিলেট-১ আসনে সর্বোচ্চ ৮ জন এবং সিলেট-৫ আসনে সর্বনিম্ন ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সিলেট-৩ আসনে ৬ জন এবং সিলেট-২, ৪ ও ৬ আসনে ৫ জন করে প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
আসনভিত্তিক প্রতীক বরাদ্দের চিত্র:
সিলেট-১ (আসন ২২৯): এই হেভিওয়েট আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পেয়েছেন ‘ধানের শীষ’। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান ‘দাঁড়িপাল্লা’, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান ‘হাতপাখা’, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) আকমল হোসেন ‘ট্রাক’, বাসদ-এর প্রণব জ্যোতি পাল ‘মই’, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ‘কাস্তে’, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া ‘আপেল’ এবং বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী সঞ্চয় কান্ত দাস ‘কাঁচি’ প্রতীক পেয়েছেন।
সিলেট-২ (আসন ২৩০): এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন প্রার্থী। বিএনপির মোছা. তাহসিনা রুশদী ‘ধানের শীষ’, খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাহির আলী ‘দেওয়াল ঘড়ি’, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমির উদ্দিন ‘হাতপাখা’, জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ‘লাঙ্গল’ এবং গণফোরামের মো. মুজিবুল হক ‘উদীয়মান সূর্য’ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
সিলেট-৩ (আসন ২৩১): এই আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির মোহাম্মদ আব্দুল মালিক ‘ধানের শীষ’, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু ‘রিকশা’, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী ‘হাতপাখা’ এবং জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ‘লাঙ্গল’ প্রতীক পেয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী ‘ফুটবল’ ও মইনুল বকর ‘কম্পিউটার’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করবেন।
সিলেট-৪ (আসন ২৩২): ৫ জন প্রার্থীর এই আসনে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী ‘ধানের শীষ’, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. জয়নাল আবেদীন ‘দাঁড়িপাল্লা’, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা জাহিদ আহমেদ ‘হাতপাখা’, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) জহিরুল ইসলাম ‘ট্রাক’ এবং জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ‘লাঙ্গল’ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
সিলেট-৫ (আসন ২৩৩): ৪ জন প্রার্থীর এই আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ওবায়দুল্লাহ ফারুক ‘খেজুর গাছ’, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল হাসান ‘দেওয়াল ঘড়ি’, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিল্লাল উদ্দিন ‘হারিকেন’ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ ‘ফুটবল’ প্রতীক পেয়েছেন।
সিলেট-৬ (আসন ২৩৪): এ আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী ‘ধানের শীষ’, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ‘দাঁড়িপাল্লা’, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) জহিদুর রহমান ‘ট্রাক’, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আবদুন নূর ‘লাঙ্গল’ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম ‘হেলিকপ্টার’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধি মেনে নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে বলেও জানান তারা।
রিপোর্টারের নাম 
























