ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ফেনীর ৩ আসনে ২৬ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ: কাল থেকে শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিক প্রচার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেনী জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক তাঁর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৬ জন প্রার্থীর হাতে প্রতীক সংবলিত কপির সেট তুলে দেন। প্রতীক বরাদ্দের এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই জেলাজুড়ে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পুরোদমে প্রচারণায় নামতে পারবেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেনীর তিনটি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ে থাকছেন। এর মধ্যে ফেনী-১ আসনে ৭ জন, ফেনী-২ আসনে ১১ জন এবং ফেনী-৩ আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ফেনী-১ (পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া):
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—বিএনপির মুন্সি রফিকুল আলম (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর এস এম কামাল উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মোতাহের হোসেন চৌধুরী (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কাজী গোলাম কিবরিয়া (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আনোয়ার উল্ল্যাহ ভূঞা (বটগাছ), বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী (ডাব) এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাহবুব মোর্শেদ মজুমদার (হারিকেন)।

ফেনী-২ (ফেনী সদর):
জেলা সদর নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ১১ জন। এখানে প্রতীক পেয়েছেন—বিএনপির জয়নাল আবেদিন (ধানের শীষ), এবি পার্টির মো. মজিবুর রহমান (ঈগল), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঞা (হাতপাখা), জেএসডির সামসুদ্দিন মজুমদার (তারা), বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা জসিম উদ্দিন (কাচি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হারুনুর রশিদ ভূঞা (রিকশা), ইনসানিয়াত বিপ্লবের তাহিরুল ইসলাম (আপেল), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ আবুল হোসেন (বটগাছ), গণঅধিকার পরিষদের তারেকুল ইসলাম ভূঞা (ট্রাক), আমজনতা দলের সাইফুল করিম মজুমদার (প্রজাপতি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল (ঘোড়া)।

ফেনী-৩ (দাগনভূঞা ও সোনাগাজী):
এই আসনে ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনী ময়দানে থাকছেন। তাঁরা হলেন—বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের এডভোকেট মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলনের সাইফ উদ্দিন (হাতপাখা), ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবু নাছের (চেয়ার), বাসদের আবদুল মালেক (মই) এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের হাসান আহমেদ (আপেল)।

এর আগে, মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে চারজন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। দলীয় ও জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে ফেনীর তিনটি আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নাজমুল আলম, মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী সরে দাঁড়ান। এছাড়া ফেনী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ মাহমুদও তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফেনী জেলায় এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ১৬ হাজার ৩০৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৩৭৪ জন এবং নারী ভোটার ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৪ জন। এছাড়া প্রবাসে অবস্থানরত ৩০ হাজার ১৫১ জন ভোটার এবার ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর এখন সাধারণ ভোটারদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রার্থীরাও তাঁদের নির্বাচনী কৌশল সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কম্বোডিয়ায় মানবপাচার: পাসপোর্ট-অর্থ আত্মসাৎ ও নির্যাতনের অভিযোগে মূলহোতা গ্রেপ্তার

ফেনীর ৩ আসনে ২৬ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ: কাল থেকে শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিক প্রচার

আপডেট সময় : ০৩:১৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেনী জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক তাঁর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৬ জন প্রার্থীর হাতে প্রতীক সংবলিত কপির সেট তুলে দেন। প্রতীক বরাদ্দের এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই জেলাজুড়ে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পুরোদমে প্রচারণায় নামতে পারবেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেনীর তিনটি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ে থাকছেন। এর মধ্যে ফেনী-১ আসনে ৭ জন, ফেনী-২ আসনে ১১ জন এবং ফেনী-৩ আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ফেনী-১ (পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া):
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—বিএনপির মুন্সি রফিকুল আলম (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর এস এম কামাল উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মোতাহের হোসেন চৌধুরী (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কাজী গোলাম কিবরিয়া (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আনোয়ার উল্ল্যাহ ভূঞা (বটগাছ), বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী (ডাব) এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাহবুব মোর্শেদ মজুমদার (হারিকেন)।

ফেনী-২ (ফেনী সদর):
জেলা সদর নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ১১ জন। এখানে প্রতীক পেয়েছেন—বিএনপির জয়নাল আবেদিন (ধানের শীষ), এবি পার্টির মো. মজিবুর রহমান (ঈগল), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঞা (হাতপাখা), জেএসডির সামসুদ্দিন মজুমদার (তারা), বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা জসিম উদ্দিন (কাচি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হারুনুর রশিদ ভূঞা (রিকশা), ইনসানিয়াত বিপ্লবের তাহিরুল ইসলাম (আপেল), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ আবুল হোসেন (বটগাছ), গণঅধিকার পরিষদের তারেকুল ইসলাম ভূঞা (ট্রাক), আমজনতা দলের সাইফুল করিম মজুমদার (প্রজাপতি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল (ঘোড়া)।

ফেনী-৩ (দাগনভূঞা ও সোনাগাজী):
এই আসনে ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনী ময়দানে থাকছেন। তাঁরা হলেন—বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের এডভোকেট মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলনের সাইফ উদ্দিন (হাতপাখা), ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবু নাছের (চেয়ার), বাসদের আবদুল মালেক (মই) এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের হাসান আহমেদ (আপেল)।

এর আগে, মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে চারজন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। দলীয় ও জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে ফেনীর তিনটি আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নাজমুল আলম, মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী সরে দাঁড়ান। এছাড়া ফেনী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ মাহমুদও তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফেনী জেলায় এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ১৬ হাজার ৩০৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৩৭৪ জন এবং নারী ভোটার ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৪ জন। এছাড়া প্রবাসে অবস্থানরত ৩০ হাজার ১৫১ জন ভোটার এবার ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর এখন সাধারণ ভোটারদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রার্থীরাও তাঁদের নির্বাচনী কৌশল সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।