আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়ায় চরম সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে এলেও উপজেলার ৫৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে কোনগুলো সাধারণ আর কোনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছে না স্থানীয় নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত নির্বাচনগুলোতে ওসমানীনগরের বেশ কিছু কেন্দ্রে সহিংসতা, ব্যালট ছিনতাই এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। অতীতের এই তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে এবার আগেভাগেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ছিল সাধারণ ভোটার ও জনমনে। তবে প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে থাকলেও এখন পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের কোনো প্রাথমিক বা চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত না হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই উপজেলায় মোট ৫৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা বিন্যাস নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল হাসানাত কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দিতে পারেননি। তিনি কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশের ওপর ছেড়ে দিয়ে জানান, এ বিষয়ে পুলিশই ভালো বলতে পারবে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত প্রতিবেদন বা তালিকা কমিশনকে দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে এবং এটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে কোন কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিষ্ণুপদ রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এসআইয়ের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি উল্টো দাবি করেন যে, তার কাছে এ ধরনের কোনো তালিকা নেই। ওসির নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে জানাবেন বলে দায় এড়িয়ে যান।
প্রশাসনের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কার্যকর কোনো সমন্বয় নেই। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভোটার ও নির্বাচন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র শনাক্ত করে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও আনসার মোতায়েনসহ বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























