আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় টানা দ্বিতীয় বছরের মতো অংশ নিতে পারছে না বাংলাদেশের প্রকাশকরা। মেলা আয়োজক কর্তৃপক্ষ ‘পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড’ জানিয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমতি বা ‘সবুজ সংকেত’ না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকলেও, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকছে না।
গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চ্যাটার্জি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মেলায় যোগ দেওয়ার জন্য প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল এবং কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে গিল্ড বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় সরকারের ছাড়পত্র ছাড়া বাংলাদেশকে স্টল বরাদ্দের ঝুঁকি নিতে পারছে না। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, কলকাতার কোনো স্থানীয় স্টল যদি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশের বই বিক্রি করে, তবে তাতে আয়োজকদের কোনো আপত্তি থাকবে না। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পাশাপাশি এবারের মেলায় ‘বাজেট বরাদ্দ’ না থাকার কারণে অংশ নিচ্ছে না নিয়মিত অংশগ্রহণকারী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার ৪৯তম এই আসর আগামী ২২ জানুয়ারি সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কের ‘বইমেলা প্রাঙ্গণ’-এ শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের মেলার থিম কান্ট্রি হিসেবে থাকছে আর্জেন্টিনা। মেলায় ২১টি বিদেশি রাষ্ট্রসহ এক হাজারের বেশি স্থানীয় ও ভারতের অন্যান্য রাজ্যের প্রকাশনা সংস্থা অংশ নেবে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে প্রথমবারের মতো এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন এবং দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফিরে আসছে চীন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
বিশ্বের বৃহত্তম এই অ-বাণিজ্যিক বইমেলায় বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে পাঠক ও লেখকরা বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। প্রতিবছর বাংলাদেশি লেখকদের বই ও বিশেষায়িত প্যাভিলিয়ন ঘিরে যে উপচে পড়া ভিড় ও বাণিজ্যিক লেনদেন হতো, তা টানা দুই বছর বন্ধ থাকায় দুই বাংলার সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ছেদ পড়ল বলে মনে করছেন সাহিত্যপ্রেমীরা। তবে গিল্ড আশা প্রকাশ করেছে যে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী বছরে আবার পূর্ণোদ্যমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
রিপোর্টারের নাম 



















