আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিএনপির জন্য এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ কি উদার গণতান্ত্রিক শক্তির পথে পরিচালিত হবে, নাকি উগ্রপন্থী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির কবলে পড়বে।
মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ভোটের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং জনগণের রায়ের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি। জনগণের কাছে যাবো এবং তারা যদি আমাদের সমর্থন দেয়, তবেই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবো। আর যদি জনগণ অন্য রায় দেয়, তবে আমরা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবো। নির্বাচনের আগেই অহেতুক বাগাড়ম্বর করার কোনো প্রয়োজন নেই।”
বিএনপি মহাসচিবের মতে, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের লড়াই। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সবসময়ই উদার ও প্রগতিশীল গণতন্ত্রের চর্চা করে আসছে। এই কঠিন সময়ে দেশবাসীকে গণতন্ত্র, জনকল্যাণ এবং উদার রাজনীতির পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিষয়ে ফখরুল বলেন, বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত নতুন ৮ দফা এবং ফ্যামিলি ও ফার্মারস কার্ডের মতো জনমুখী কর্মসূচিগুলো প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করাই হবে শহীদ জিয়ার আদর্শের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন।
ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতি হতে হবে স্বচ্ছ ও নীতিভিত্তিক। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়। অতীতে যারা ধর্মকে ব্যবহার করে সংকীর্ণ রাজনীতি করেছে, তাদের ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় স্পষ্ট রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যারা নির্বাচন প্রতিহতের হুমকি দেয়, ভোটের মাঠে তাদের প্রকৃত জনসমর্থন কতটুকু তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে।
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, সংস্কারের ধারণাটি বিএনপিরই মস্তিষ্কপ্রসূত। ২০১৬ সালের ‘ভিশন-২০৩০’ থেকে শুরু করে পরবর্তীতে ৩১ দফার মাধ্যমে বিএনপিই প্রথম সংস্কারের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরেছে। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে বিএনপি অনেক বিষয়ে ছাড় দিলেও মৌলিক আদর্শে কোনো আপস করবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি ছিলেন এক অনন্য দূরদর্শী নেতা, যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড ও আত্মমর্যাদাশীল জাতির ভিত্তি রচিত হয়েছিল।
বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তেনজিংয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টারের নাম 





















