আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ভাগ্য নির্ধারণ ও রাষ্ট্র সংস্কারের এক অনন্য সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, এই নির্বাচনে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। নির্বাচনকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে জানুয়ারির মধ্যেই দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলে তিনি প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেন। প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, মাঠ প্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে লটারির মাধ্যমে রদবদল করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কর্মকর্তাদের জন্য ‘বডি-ওর্ন’ ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকবে, যা সরাসরি কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার কাছে অভিযোগ করে যে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের চাপ ও নির্বাচন কমিশনের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে কমিশনকে পক্ষপাতদুষ্ট করার চেষ্টা চলছে। এনসিপি নেতারা বিশেষ করে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিষয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া এবং কমিশনের পক্ষ থেকে সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং এই ইস্যুতে তারা পুনরায় কমিশনের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়াও প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের সাহায্য নেবেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, দেশ সংস্কারের স্বার্থে এই প্রচারণা আইনত বৈধ এবং এর প্রয়োজনীয়তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে আশ্বস্ত করেন যে, যেকোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের খবর পাওয়া মাত্রই সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এনসিপি নেতারা তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি প্রভাবমুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানান এবং সতর্ক করেন যে, কোনো প্রকার সাজানো বা পক্ষপাতমূলক নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।
রিপোর্টারের নাম 

























