ঢাকা ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪১৮ জন, উচ্চ আদালতের পথে বাদ পড়া ২শ’ প্রার্থী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জমা পড়া ৬৪৫টি আপিল আবেদনের ওপর টানা নয়দিন শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঋণখেলাপী, দ্বৈত নাগরিকত্ব, হলফনামায় অসঙ্গতি এবং এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনে গড়মিলসহ বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ২০০ জন প্রার্থীর আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ৪১৮ জন প্রার্থীর শিবিরে, যারা আপিল শেষে ভোটের মাঠে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া অনুপস্থিতি ও আবেদন প্রত্যাহারের কারণে বাকি ২৭ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, কুমিল্লার বিএনপি নেতা সৈয়দ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ শুনানি শেষে সোমবার তার প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত ২৪ জনের মধ্যে ২২ জনই বৈধতা পেয়েছেন।

ইসির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রার্থিতা হারানো ২০০ জনের মধ্যে ৯৮ জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বাকি ৫১ জন ১৮টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত সদস্য। দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টির (জাপা) ১৪ জন, জাতীয় পার্টির (জেপি) ৭ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৫ জন এবং বিএনপির মূল ও বিদ্রোহী মিলিয়ে ৮ জন প্রার্থী বাদ পড়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি এবং খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও এই তালিকায় রয়েছেন। ঋণখেলাপী ও দ্বৈত নাগরিকত্বের মতো সুনির্দিষ্ট কারণে বিএনপির মুঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, টি এস আইয়ুব ও সারোয়ার আলমগীরের মতো প্রার্থীদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে জাপা ও জেপির মোট ২১ জন প্রার্থীর আবেদন শুনানিতে টেকেনি।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা এখন উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে হাইকোর্ট থেকে ইতিবাচক রায় পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাদ পড়া অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী। মুঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও সারোয়ার আলমগীরের মতো প্রার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই নিজেদের প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করবেন। এদিকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ পুরো আপিল প্রক্রিয়াকে উৎসবমুখর বলে অভিহিত করেছেন এবং বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সামগ্রিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য বৈষম্য দূর করার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪১৮ জন, উচ্চ আদালতের পথে বাদ পড়া ২শ’ প্রার্থী

আপডেট সময় : ১২:০৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জমা পড়া ৬৪৫টি আপিল আবেদনের ওপর টানা নয়দিন শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঋণখেলাপী, দ্বৈত নাগরিকত্ব, হলফনামায় অসঙ্গতি এবং এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনে গড়মিলসহ বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ২০০ জন প্রার্থীর আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ৪১৮ জন প্রার্থীর শিবিরে, যারা আপিল শেষে ভোটের মাঠে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া অনুপস্থিতি ও আবেদন প্রত্যাহারের কারণে বাকি ২৭ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, কুমিল্লার বিএনপি নেতা সৈয়দ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ শুনানি শেষে সোমবার তার প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত ২৪ জনের মধ্যে ২২ জনই বৈধতা পেয়েছেন।

ইসির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রার্থিতা হারানো ২০০ জনের মধ্যে ৯৮ জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বাকি ৫১ জন ১৮টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত সদস্য। দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টির (জাপা) ১৪ জন, জাতীয় পার্টির (জেপি) ৭ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৫ জন এবং বিএনপির মূল ও বিদ্রোহী মিলিয়ে ৮ জন প্রার্থী বাদ পড়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি এবং খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও এই তালিকায় রয়েছেন। ঋণখেলাপী ও দ্বৈত নাগরিকত্বের মতো সুনির্দিষ্ট কারণে বিএনপির মুঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, টি এস আইয়ুব ও সারোয়ার আলমগীরের মতো প্রার্থীদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে জাপা ও জেপির মোট ২১ জন প্রার্থীর আবেদন শুনানিতে টেকেনি।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা এখন উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে হাইকোর্ট থেকে ইতিবাচক রায় পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাদ পড়া অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী। মুঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও সারোয়ার আলমগীরের মতো প্রার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই নিজেদের প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করবেন। এদিকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ পুরো আপিল প্রক্রিয়াকে উৎসবমুখর বলে অভিহিত করেছেন এবং বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সামগ্রিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।