বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন ঢাকা সফররত এবং দায়িত্বরত ১১টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৃথক ও সামষ্টিক পর্যায়ে এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমে কানাডার হাইকমিশনার এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, ডেনমার্ক, স্পেন ও ইতালিসহ ইইউভুক্ত ৯টি দেশের কূটনীতিকরা সম্মিলিতভাবে বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠক শেষে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ‘৩১ দফা’ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোও আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ এক নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে। এখন আর বিদেশি কোনো শক্তির নির্দেশনায় দেশ চলবে না, বরং বাংলাদেশের মানুষই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদাররা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরার বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। বিশেষ করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণের বিষয়ে কূটনীতিকরা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ ও অগ্রগতির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং সাধারণ মানুষের মতো তারাও একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানান বিএনপির এই নেতা। তারেক রহমানের এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























