ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

দ্বৈত নাগরিকত্বের জটিলতা কাটিয়ে মাঠে ২১ প্রার্থী

দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনি লড়াইয়ে টিকে গেছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে জানানো হয়েছে, যারা নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন এবং ফি জমা দেওয়ার প্রমাণপত্র দাখিল করেছেন, তাঁদের সবার প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে। বাতিল হয়েছে কেবল ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন। এছাড়া কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনও অপেক্ষমাণ রয়েছে এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

রোববার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে আপিল শুনানির শেষ দিনে মোট ৬৫টি আবেদনের নিষ্পত্তি করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে বিএনপি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, অনেকে জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ভিনদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন; বর্তমান কমিশন আগের সংকীর্ণ ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে সবার অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচনের পরিবেশ গড়তে বদ্ধপরিকর।

হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভাগ্যে যা ঘটল
আপিল শুনানিতে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক হলেও শেষ পর্যন্ত কমিশন তাঁদের বৈধ ঘোষণা করেছে:

আব্দুল আউয়াল মিন্টু (ফেনী-৩): তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী। তবে ইসি সেই আপিল নামঞ্জুর করে মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে।
শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর-২): তাঁর বিরুদ্ধে ইসির পক্ষ থেকে জারিকৃত ‘সুয়োমোটো’ রুল থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৪): ঋণখেলাপির জামিনদার হওয়ার অভিযোগে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে বিতর্ক হলেও ইসি তা বৈধ ঘোষণা করেছে। তবে ইসি সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের পরামর্শ দিয়েছেন।
লতিফ সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল-৪): তাঁর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ দলের নেতার অভিযোগে আপিল করা হয়েছিল। তবে ইসি জানায়, দল নিষিদ্ধ হলেও ব্যক্তি হিসেবে লতিফ সিদ্দিকীকে নির্বাচনে অযোগ্য করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

সংবিধান লঙ্ঘন ও আপিল শুনানিতে উত্তেজনা
নির্বাচন কমিশন যখন দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করছিল, তখন ইসির বাইরে ছাত্রদল ও অন্যান্য সংগঠনের আন্দোলনে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মামুন হাওলাদার নামের এক ব্যক্তি ইসিতে লিখিত চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেন যে, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ প্রার্থী হতে পারেন না। শুধু আবেদনের স্লিপ নিয়ে প্রার্থিতা বৈধ করা সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পরিপন্থী। এ সময় শুনানিকক্ষে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল করা নিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি হয় এবং নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করা এক ব্যক্তি ঋণখেলাপিদের ছাড় দেওয়ার প্রতিবাদ জানান।

আপিলে প্রার্থিতা বহাল ও বাতিল হওয়া কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী

প্রার্থীর নামআসনদলআপিলের বিষয়ইসির সিদ্ধান্ত
আব্দুল আউয়াল মিন্টুফেনী-৩বিএনপিদ্বৈত নাগরিকত্ববহাল
আসলাম চৌধুরীচট্টগ্রাম-৪বিএনপিঋণখেলাপি (গ্যারান্টার)বহাল
লতিফ সিদ্দিকীটাঙ্গাইল-৪স্বতন্ত্রনিষিদ্ধ দলের সম্পৃক্ততাবহাল
নজরুল ইসলামঢাকা-১জামায়াতদ্বৈত নাগরিকত্ববহাল
সারোয়ার আলমগীরচট্টগ্রাম-২বিএনপিঋণখেলাপিবাতিল
আবদুল গফুর ভূঁইয়াকুমিল্লা-১০বিএনপিদ্বৈত নাগরিকত্ববাতিল

সিইসি নাসির উদ্দিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কমিশন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করেনি। তিনি বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ সমর্থনের বিষয়টিও আমরা সহজ করে দিয়েছি কারণ আমরা চাই একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।” আগামীকাল ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরই জানা যাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে কতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১১, আশঙ্কাজনক অনেকে

দ্বৈত নাগরিকত্বের জটিলতা কাটিয়ে মাঠে ২১ প্রার্থী

আপডেট সময় : ০১:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনি লড়াইয়ে টিকে গেছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে জানানো হয়েছে, যারা নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন এবং ফি জমা দেওয়ার প্রমাণপত্র দাখিল করেছেন, তাঁদের সবার প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে। বাতিল হয়েছে কেবল ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন। এছাড়া কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনও অপেক্ষমাণ রয়েছে এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

রোববার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে আপিল শুনানির শেষ দিনে মোট ৬৫টি আবেদনের নিষ্পত্তি করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে বিএনপি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, অনেকে জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ভিনদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন; বর্তমান কমিশন আগের সংকীর্ণ ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে সবার অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচনের পরিবেশ গড়তে বদ্ধপরিকর।

হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভাগ্যে যা ঘটল
আপিল শুনানিতে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক হলেও শেষ পর্যন্ত কমিশন তাঁদের বৈধ ঘোষণা করেছে:

আব্দুল আউয়াল মিন্টু (ফেনী-৩): তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী। তবে ইসি সেই আপিল নামঞ্জুর করে মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে।
শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর-২): তাঁর বিরুদ্ধে ইসির পক্ষ থেকে জারিকৃত ‘সুয়োমোটো’ রুল থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৪): ঋণখেলাপির জামিনদার হওয়ার অভিযোগে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে বিতর্ক হলেও ইসি তা বৈধ ঘোষণা করেছে। তবে ইসি সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের পরামর্শ দিয়েছেন।
লতিফ সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল-৪): তাঁর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ দলের নেতার অভিযোগে আপিল করা হয়েছিল। তবে ইসি জানায়, দল নিষিদ্ধ হলেও ব্যক্তি হিসেবে লতিফ সিদ্দিকীকে নির্বাচনে অযোগ্য করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

সংবিধান লঙ্ঘন ও আপিল শুনানিতে উত্তেজনা
নির্বাচন কমিশন যখন দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করছিল, তখন ইসির বাইরে ছাত্রদল ও অন্যান্য সংগঠনের আন্দোলনে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মামুন হাওলাদার নামের এক ব্যক্তি ইসিতে লিখিত চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেন যে, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ প্রার্থী হতে পারেন না। শুধু আবেদনের স্লিপ নিয়ে প্রার্থিতা বৈধ করা সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পরিপন্থী। এ সময় শুনানিকক্ষে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল করা নিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি হয় এবং নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করা এক ব্যক্তি ঋণখেলাপিদের ছাড় দেওয়ার প্রতিবাদ জানান।

আপিলে প্রার্থিতা বহাল ও বাতিল হওয়া কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী

প্রার্থীর নামআসনদলআপিলের বিষয়ইসির সিদ্ধান্ত
আব্দুল আউয়াল মিন্টুফেনী-৩বিএনপিদ্বৈত নাগরিকত্ববহাল
আসলাম চৌধুরীচট্টগ্রাম-৪বিএনপিঋণখেলাপি (গ্যারান্টার)বহাল
লতিফ সিদ্দিকীটাঙ্গাইল-৪স্বতন্ত্রনিষিদ্ধ দলের সম্পৃক্ততাবহাল
নজরুল ইসলামঢাকা-১জামায়াতদ্বৈত নাগরিকত্ববহাল
সারোয়ার আলমগীরচট্টগ্রাম-২বিএনপিঋণখেলাপিবাতিল
আবদুল গফুর ভূঁইয়াকুমিল্লা-১০বিএনপিদ্বৈত নাগরিকত্ববাতিল

সিইসি নাসির উদ্দিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কমিশন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করেনি। তিনি বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ সমর্থনের বিষয়টিও আমরা সহজ করে দিয়েছি কারণ আমরা চাই একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।” আগামীকাল ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরই জানা যাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে কতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।