নিরপেক্ষতার ঘাটতি হলে আবারও ৫ আগস্টের হুঁশিয়ারি রুমিন ফারহানার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দেশের যেকোনো আসনে আবারও ৫ আগস্ট সদৃশ গণ-অভ্যুত্থান হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। রোববার বিকেলে সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের চাঁনপুর বাজারে এক উঠান বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন যে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে এবং ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব।
রুমিন ফারহানা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুরোপুরি নিরপেক্ষ থেকে আইনের শাসন কায়েম করতে হবে। তিনি প্রশাসনকে হুশিয়ার করে বলেন যে কোনো প্রার্থীকে বিশেষ চোখে দেখা হলে বা নিরপেক্ষতার ঘাটতি দেখা দিলে জনগণ ৫ আগস্টের মতো রাজপথে নেমে আসবে। আইনের প্রয়োগ যেন সবার জন্য সমান হয় সেই বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিনীত অনুরোধ জানান এবং প্রতিটি ভোটার যেন নিরাপদে ও নিশ্চিন্তে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন তা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।
তবে এই কঠোর বার্তার পাশাপাশি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে ঘিরে নতুন বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার সরাইলের ইসলামাবাদ এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিশাল সমাবেশ করার অভিযোগে তাঁর এক সমর্থককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে রুমিন ফারহানা কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং আঙুল উঁচিয়ে তাঁকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং বিচারিক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
রুমিন ফারহানা বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও দলীয় সিদ্ধান্তে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন। তিনি প্রশাসনকে নিজের সীমানার ভেতরে থেকে কাজ করার আহ্বান জানান এবং হুঁশিয়ারি দেন যে কোনো বিশেষ প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হলে তার ফল শুভ হবে না। আগামী ২২ জানুয়ারি তাঁকে সশরীরে হাজির হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে করা আচরণের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং আচরণবিধি নিয়ে প্রশাসনের সাথে তাঁর দ্বন্দ্ব সরাইল ও আশুগঞ্জ এলাকার নির্বাচনি আমেজকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























