ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। নির্বাচনি সমঝোতায় চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে কেবল চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেয় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। তবে জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ওই আসনে জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থী ডা. আবু নাছের এখনো মাঠে সক্রিয় থাকায় দলটির একমাত্র প্রার্থীর জয়লাভ এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ৯টিতে এনসিপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে ৮টি আসন থেকে সরে আসতে হয়েছে দলটিকে। বর্তমানে চট্টগ্রামে দলটির একমাত্র ভরসা চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ। যদিও গত ১৫ জানুয়ারি ঘোষিত জোটের তালিকায় এই আসনটি এনসিপিকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় জোটের ‘চেইন অব কমান্ড’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপি নেতারা।
চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী আরিফ মঈনউদ্দীন আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনটি জামায়াতের ‘এ’ ক্যাটাগরির হওয়ায় তারা সেটি ছাড়েনি, পরিবর্তে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছের মাঠ ছাড়ছেন না, যা দলটির জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বন্দরনগরীতে ৯টি আসনের জায়গায় মাত্র ১টি আসনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়া এবং সেখানেও জোটের শরিকদের প্রবল বাধা এনসিপিকে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারে।
এরই মধ্যে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে ঘোষিত এনসিপি প্রার্থী মীর আরশাদুল হক পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়ায় দলটি চট্টগ্রামে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেই নির্ধারিত হবে এনসিপি চট্টগ্রামে তাদের একমাত্র প্রার্থীর জন্য জোটের পূর্ণ সমর্থন আদায় করতে পারবে কি না। যদি জামায়াত ও জোটের অন্য শরীকরা প্রার্থী প্রত্যাহার না করে, তবে চট্টগ্রামে এনসিপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও অস্তিত্ব বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন দলটির সমর্থকরা।
রিপোর্টারের নাম 

























