ঢাকা ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষপাত নিয়ে সিইসির কাছে বিএনপির নালিশ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বরত বেশ কিছু সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পর্যন্ত অনেক কর্মকর্তার ভূমিকা নিরপেক্ষ নয়। রোববার বিকেলে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এই অভিযোগ জানানো হয় এবং নির্বাচনের আগে তাঁদের প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়।

মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল সিইসির সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক করে। বৈঠকে অভিযোগ করা হয় যে, বিভিন্ন এলাকায় রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং পুলিশ সুপাররা একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষ নিয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। বিএনপির দাবি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এসব কর্মকর্তাকে দ্রুত তদন্তপূর্বক বদলি বা প্রত্যাহার করতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ:

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), মোবাইল নম্বর এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করছেন। বিএনপি একে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ হিসেবে বর্ণনা করে ইসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দলটির আশঙ্কা, এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে ভোটারদের ওপর অনৈতিক প্রভাব খাটানো হতে পারে।

ব্যালট পেপার ও ভোটার স্থানান্তর নিয়ে বিতর্ক

  • পোস্টাল ব্যালট: বর্তমান পোস্টাল ব্যালটের নকশা ও পদ্ধতি কোনো একটি দলকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে বলে বিএনপির অভিযোগ। তারা প্রতীক বরাদ্দের পর এই ব্যালট সরবরাহের পরামর্শ দিয়েছে।
  • ভোটার স্থানান্তর: ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন আসনে অন্য জেলা থেকে ব্যাপক হারে ভোটার স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে বিএনপি দাবি করেছে। এর বিস্তারিত তথ্য ইসিকে সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
  • আচরণবিধি লঙ্ঘন: বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রটোকল ব্যবহার করে নিয়মিত আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন, যা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট করছে বলে বিএনপি মনে করে।

বিএনপি উত্থাপিত প্রধান অভিযোগসমূহ

বিষয়অভিযোগের প্রকৃতিবিএনপির দাবি
প্রশাসনিক কর্মকর্তারিটার্নিং ও পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষপাতিত্বতদন্ত ও দ্রুত প্রত্যাহার
জামায়াতে ইসলামীভোটারদের গোপন তথ্য (NID, বিকাশ) সংগ্রহফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ
ভোটার তালিকাঢাকায় ভোটারদের অস্বাভাবিক স্থানান্তরবিস্তারিত তথ্য প্রকাশ
পোস্টাল ব্যালটনকশায় অসংগতি ও বিশেষ সুবিধা প্রদানপুনরায় সংশোধন ও মুদ্রণ

সব শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর তাঁদের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়নি। ছোটখাটো ত্রুটিগুলো দ্রুত সংশোধন করলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। তবে শাবিপ্রবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইসির নতুন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি কেবল জটিলতাই বাড়াবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১১, আশঙ্কাজনক অনেকে

নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষপাত নিয়ে সিইসির কাছে বিএনপির নালিশ

আপডেট সময় : ১২:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বরত বেশ কিছু সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পর্যন্ত অনেক কর্মকর্তার ভূমিকা নিরপেক্ষ নয়। রোববার বিকেলে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এই অভিযোগ জানানো হয় এবং নির্বাচনের আগে তাঁদের প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়।

মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল সিইসির সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক করে। বৈঠকে অভিযোগ করা হয় যে, বিভিন্ন এলাকায় রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং পুলিশ সুপাররা একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষ নিয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। বিএনপির দাবি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এসব কর্মকর্তাকে দ্রুত তদন্তপূর্বক বদলি বা প্রত্যাহার করতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ:

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), মোবাইল নম্বর এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করছেন। বিএনপি একে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ হিসেবে বর্ণনা করে ইসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দলটির আশঙ্কা, এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে ভোটারদের ওপর অনৈতিক প্রভাব খাটানো হতে পারে।

ব্যালট পেপার ও ভোটার স্থানান্তর নিয়ে বিতর্ক

  • পোস্টাল ব্যালট: বর্তমান পোস্টাল ব্যালটের নকশা ও পদ্ধতি কোনো একটি দলকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে বলে বিএনপির অভিযোগ। তারা প্রতীক বরাদ্দের পর এই ব্যালট সরবরাহের পরামর্শ দিয়েছে।
  • ভোটার স্থানান্তর: ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন আসনে অন্য জেলা থেকে ব্যাপক হারে ভোটার স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে বিএনপি দাবি করেছে। এর বিস্তারিত তথ্য ইসিকে সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
  • আচরণবিধি লঙ্ঘন: বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রটোকল ব্যবহার করে নিয়মিত আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন, যা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট করছে বলে বিএনপি মনে করে।

বিএনপি উত্থাপিত প্রধান অভিযোগসমূহ

বিষয়অভিযোগের প্রকৃতিবিএনপির দাবি
প্রশাসনিক কর্মকর্তারিটার্নিং ও পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষপাতিত্বতদন্ত ও দ্রুত প্রত্যাহার
জামায়াতে ইসলামীভোটারদের গোপন তথ্য (NID, বিকাশ) সংগ্রহফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ
ভোটার তালিকাঢাকায় ভোটারদের অস্বাভাবিক স্থানান্তরবিস্তারিত তথ্য প্রকাশ
পোস্টাল ব্যালটনকশায় অসংগতি ও বিশেষ সুবিধা প্রদানপুনরায় সংশোধন ও মুদ্রণ

সব শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর তাঁদের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়নি। ছোটখাটো ত্রুটিগুলো দ্রুত সংশোধন করলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। তবে শাবিপ্রবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইসির নতুন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি কেবল জটিলতাই বাড়াবে।