ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে জামায়াতের সংশয়: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে একই ধরনের অভিযোগে কারও মনোনয়নপত্র বাতিল করা হচ্ছে, আবার কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় এবং ইসির পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

গত রোববার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠক করে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদসহ সরকারের শীর্ষ কয়েকজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের কমিশনের কর্মকাণ্ড নিয়ে দলের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করছে যাতে তাদের বিতর্কিত প্রার্থীদের মনোনয়ন বহাল রাখা হয়। কোনো বিশেষ দলের নাম উল্লেখ না করে ডা. তাহের বলেন, আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) অনুযায়ী আইনের শাসন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। এমনকি জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রেও যদি ত্রুটি থাকে, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু কোনো বিশেষ দলের চাপে নতি স্বীকার করলে নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা থাকবে না।

এছাড়া নির্বাচনি মাঠে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত না হওয়ার অভিযোগও তুলেছে দলটি। জামায়াত নেতাদের মতে, গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে একটি নির্দিষ্ট বড় রাজনৈতিক দলের প্রধানকে অতিরিক্ত সরকারি প্রটোকল ও নিরাপত্তা দিয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনি প্রচারণার এই সময়ে একজন নেতার প্রতি এই বাড়তি গুরুত্ব অন্য দলগুলোর সঙ্গে বৈষম্য তৈরি করছে। জামায়াতের দাবি, হয় অন্য প্রধান দলগুলোর প্রধানদেরও একই প্রটোকল দিতে হবে, নতুবা এই বিশেষ সুবিধা বন্ধ করে নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

বৈঠক শেষে জামায়াত নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যেন নিছক আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে সত্যিকারের জনরায়ের প্রতিফলন হয়। তারা প্রধান উপদেষ্টাকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মনোনয়নপত্র বৈধ বা অবৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে আইনের বিচ্যুতি ঘটলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনমনে সংশয় ও হতাশা ছড়িয়ে পড়বে। কমিশনকে কোনো মহলের চাপে নতি স্বীকার না করে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা বিমানবন্দরে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আটক: হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি

ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে জামায়াতের সংশয়: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে একই ধরনের অভিযোগে কারও মনোনয়নপত্র বাতিল করা হচ্ছে, আবার কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় এবং ইসির পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

গত রোববার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠক করে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদসহ সরকারের শীর্ষ কয়েকজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের কমিশনের কর্মকাণ্ড নিয়ে দলের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করছে যাতে তাদের বিতর্কিত প্রার্থীদের মনোনয়ন বহাল রাখা হয়। কোনো বিশেষ দলের নাম উল্লেখ না করে ডা. তাহের বলেন, আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) অনুযায়ী আইনের শাসন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। এমনকি জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রেও যদি ত্রুটি থাকে, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু কোনো বিশেষ দলের চাপে নতি স্বীকার করলে নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা থাকবে না।

এছাড়া নির্বাচনি মাঠে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত না হওয়ার অভিযোগও তুলেছে দলটি। জামায়াত নেতাদের মতে, গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে একটি নির্দিষ্ট বড় রাজনৈতিক দলের প্রধানকে অতিরিক্ত সরকারি প্রটোকল ও নিরাপত্তা দিয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনি প্রচারণার এই সময়ে একজন নেতার প্রতি এই বাড়তি গুরুত্ব অন্য দলগুলোর সঙ্গে বৈষম্য তৈরি করছে। জামায়াতের দাবি, হয় অন্য প্রধান দলগুলোর প্রধানদেরও একই প্রটোকল দিতে হবে, নতুবা এই বিশেষ সুবিধা বন্ধ করে নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

বৈঠক শেষে জামায়াত নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যেন নিছক আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে সত্যিকারের জনরায়ের প্রতিফলন হয়। তারা প্রধান উপদেষ্টাকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মনোনয়নপত্র বৈধ বা অবৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে আইনের বিচ্যুতি ঘটলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনমনে সংশয় ও হতাশা ছড়িয়ে পড়বে। কমিশনকে কোনো মহলের চাপে নতি স্বীকার না করে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত।