ঢাকা ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

মাদারীপুরে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৭, পরিচয় শনাক্ত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২১:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানি বেড়ে ৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মস্তফাপুর ইউনিয়নের মিলগেট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি উদ্ধার করার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নিহতদের মধ্যে বাস সুপারভাইজার পান্নু মুন্সি (৫০) মাদারীপুর শহরের কলেজ রোড এলাকার নেছার উদ্দিন মুন্সির ছেলে। অটোরিকশা চালক সাগর বেপারী (২২) সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকার জসীম বেপারীর ছেলে। নিহত অন্য পাঁচজন দিনমজুর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা। তারা হলেন রনজিত বাড়ৈর স্ত্রী শেফালী বাড়ৈ (৪২), সাগর বালার মেয়ে কামনা বিশ্বাস (৪১), পলাশ বাড়ৈর ছেলে দুলাল বাড়ৈ (৪৫), প্রকাশ বাড়ৈর স্ত্রী আভা বাড়ৈ (৫০) এবং জয়ন্ত বাড়ৈর স্ত্রী অনিতা বাড়ৈ (৪০)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করা সার্বিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মিলগেট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়। পরে উদ্ধার অভিযানে বাসটির ভেতর থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এই দুর্ঘটনায় বাসের অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ উদ্যোগে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই সময় মহাসড়কের দুই লেনেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন আল রশিদ জানান, “দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে অটোরিকশার তিনজন যাত্রীসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীও আমাদের সাথে উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়। বাসটি রাস্তার পাশের খাদের কাদা-পানির মধ্যে পড়ে ছিল। এই ঘটনায় সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতিতে বাস চালানো এবং মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশাকে ওভারটেক করার চেষ্টার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর

মাদারীপুরে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৭, পরিচয় শনাক্ত

আপডেট সময় : ১১:২১:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানি বেড়ে ৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মস্তফাপুর ইউনিয়নের মিলগেট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি উদ্ধার করার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নিহতদের মধ্যে বাস সুপারভাইজার পান্নু মুন্সি (৫০) মাদারীপুর শহরের কলেজ রোড এলাকার নেছার উদ্দিন মুন্সির ছেলে। অটোরিকশা চালক সাগর বেপারী (২২) সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকার জসীম বেপারীর ছেলে। নিহত অন্য পাঁচজন দিনমজুর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা। তারা হলেন রনজিত বাড়ৈর স্ত্রী শেফালী বাড়ৈ (৪২), সাগর বালার মেয়ে কামনা বিশ্বাস (৪১), পলাশ বাড়ৈর ছেলে দুলাল বাড়ৈ (৪৫), প্রকাশ বাড়ৈর স্ত্রী আভা বাড়ৈ (৫০) এবং জয়ন্ত বাড়ৈর স্ত্রী অনিতা বাড়ৈ (৪০)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করা সার্বিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মিলগেট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়। পরে উদ্ধার অভিযানে বাসটির ভেতর থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এই দুর্ঘটনায় বাসের অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ উদ্যোগে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই সময় মহাসড়কের দুই লেনেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন আল রশিদ জানান, “দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে অটোরিকশার তিনজন যাত্রীসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীও আমাদের সাথে উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়। বাসটি রাস্তার পাশের খাদের কাদা-পানির মধ্যে পড়ে ছিল। এই ঘটনায় সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতিতে বাস চালানো এবং মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশাকে ওভারটেক করার চেষ্টার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে।”