ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার রিশখালী গ্রামে অবস্থিত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা বাঘা যতীনের পৈতৃক ভিটাটি সংরক্ষণের অভাবে আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। সময়ের সাথে সাথে এই ঐতিহাসিক স্থানটি অবহেলা ও প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে, যার ফলে এক বীর বিপ্লবীর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়েছে।
বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, যিনি খালি হাতে বাঘ হত্যার সাহসিকতার জন্য ‘বাঘা যতীন’ নামে পরিচিতি লাভ করেন, তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে এই রিশখালী গ্রামেই। ১৮৭৯ সালে কুষ্টিয়ার কয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও, তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়, শিক্ষা এবং দেশপ্রেমের ভিত্তি এখানেই গড়ে উঠেছিল। তার বাবা উমেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, মা শরৎশশী এবং বোন বিনোদ বালার সান্নিধ্যে তিনি বেড়ে ওঠেন। কিন্তু বর্তমানে তার পৈতৃক ভিটা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সংরক্ষণের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। এটি এখন কেবলই উপেক্ষা, জরাজীর্ণতা এবং বেদনার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই স্থানটিতে বর্তমানে কোনো তথ্যফলক, স্মৃতিস্তম্ভ বা জাদুঘর নেই। এমনকি পথ নির্দেশক বোর্ডও না থাকায় বাইরে থেকে আসা মানুষের পক্ষে এটি যে বাঘা যতীনের জন্মভিটা, তা চেনা প্রায় অসম্ভব। ১৯৮৭ সালে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে ছয় শতক জমি অধিগ্রহণ করে ‘বিপ্লবী বাঘা যতীন একাডেমি’ নামে একটি ক্লাব গড়ে তোলা হলেও, পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেটিও এখন অস্তিত্বহীন।
স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়া বাঘা যতীনের পৈতৃক বসতভিটা নবগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। তার বাবা উমেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর তিনি মা ও বোনের সঙ্গে কুষ্টিয়ার কয়া গ্রামে মামাবাড়ি চলে যান। কিন্তু মৃত্যুর এত বছর পরও তার নিজ গ্রামে তার স্মৃতি রক্ষার্থে কোনো উল্লেখযোগ্য নির্মাণ বা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। অরক্ষিত একটি ম্যুরাল এবং একটি অসম্পূর্ণ ভাস্কর্য ছাড়া বাঘা যতীনের পৈতৃক ভিটা আজ প্রায় চিহ্নহীন। ১৯১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর উড়িষ্যার বালেশ্বরে সম্মুখযুদ্ধে গুরুতর আহত হওয়ার পর বালাসোর হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
রিপোর্টারের নাম 




















