রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার দক্ষিণ কোলকোন্দ এলাকায় তিস্তা নদীর তীর রক্ষা গ্রোয়েন বাঁধ কেটে অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে এটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এর ফলে নদীর চরসহ পুরো বাঁধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিস্তার চরাঞ্চল থেকে বালু উত্তোলন করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তা বিক্রি করছে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে শুধু নদীর চরই নয়, পুরো গ্রোয়েন বাঁধ ব্যবস্থাও হুমকির সম্মুখীন। গ্রোয়েন বাঁধ সাধারণত নদীর স্রোতকে তীরের বদলে মাঝনদীর দিকে প্রবাহিত করে তীর ভাঙন রোধ করে এবং জমিতে পলি জমিয়ে সেটিকে উর্বর করে তোলে। দক্ষিণ কোলকোন্দ এলাকায় এই বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছিল স্থানীয় বসতবাড়ি, কৃষিজমি, স্কুল, রাস্তা এবং অন্যান্য অবকাঠামো রক্ষার জন্য। কিন্তু বর্তমানে এটি বালু লুটের একটি সহজ উৎসে পরিণত হয়েছে। বাঁধের কারণে নদীর স্রোত এখানে তুলনামূলকভাবে কম থাকে, ফলে পলি ও বালু জমে উঁচু চর তৈরি হয়েছে, যা বালু উত্তোলনের জন্য সুবিধাজনক।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিস্তা চরের জমির তথাকথিত মালিক ও দখলদাররা মাহিন্দ্রা ট্রাক্টরের মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়। এরপর মাহিন্দ্রা চালকেরা নদীর চর থেকে দিনের পর দিন বালু বিক্রি করে আসছে।
সম্প্রতি, গঙ্গাচড়া মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোলকোন্দ গ্রোয়েন বাঁধ সংলগ্ন তিস্তা নদীর চরে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় বালুবোঝাই মাহিন্দ্রা আটকের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানিয়েছেন, যারা বাঁধ কেটে বালু উত্তোলন করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, এই গ্রোয়েন বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিস্তা নদীর প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হতে পারে। এর প্রভাব শুধু দক্ষিণ কোলকোন্দ নয়, বরং বিস্তৃত এলাকাজুড়ে, এমনকি রংপুর শহর পর্যন্ত পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত শুধু শ্রমিক বা চালক নয়, বরং চরের জমির মালিক, দখলদার, মাহিন্দ্রা ট্রাক্টরের মালিক ও চালকসহ পুরো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রোয়েন বাঁধটি অবিলম্বে সংস্কার করা না হলে আসন্ন বর্ষাকালে দক্ষিণ কোলকোন্দসহ বৃহত্তর রংপুরে ভয়াবহ নদীভাঙন ও মানবিক বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা করছেন তারা।
রিপোর্টারের নাম 
























