ঢাকা ০২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার: ‘ইনসাফের রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাষ্ট্র, নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান—এই তিন স্তরে মৌলিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, তাদের ইশতেহারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে আধিপত্যবাদ মোকাবিলা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা জোরদার এবং সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা সংরক্ষণ ও বিকাশ। তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তিকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের সাথে যুক্ত করে এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইশতেহার প্রণয়নের জন্য এহতেশাম হককে প্রধান এবং ইশতিয়াক আকিবকে সাধারণ সম্পাদক করে আট সদস্যের একটি উপকমিটি গত ১৫ জানুয়ারি গঠিত হয়েছে। এই কমিটি বর্তমানে দলের নির্বাচনি ইশতেহারের খসড়া তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যদিও এটি এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

এনসিপির একাধিক নেতা তাদের দলের মূল লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই তাদের প্রধান অঙ্গীকার। এই রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক এবং সেবামুখী করে পুনর্গঠনের ওপর জোর দিচ্ছেন। এই উদ্দেশ্য সামনে রেখে একটি বাস্তবসম্মত, সময়োপযোগী ও সমাধানভিত্তিক ইশতেহার জাতির সামনে উপস্থাপনের জন্য দলটি প্রস্তুত হচ্ছে।

জানা গেছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে দলের ঘোষিত ২৪ দফা ইশতেহারের মধ্যে যে বিষয়গুলো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পূর্ণ করা সম্ভব, সেগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া জাতীয় বাজেটের সুষম বণ্টন, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা অর্জনের জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, ধনীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ এবং সরকারের আয় বৃদ্ধির বিভিন্ন কার্যকর পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে স্থান পাবে।

দলীয় সূত্রমতে, ইশতেহারে মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বার্ষিক আয় ও সম্পদের হিসাব একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রকাশ এবং নিয়মিত হালনাগাদ করার বিষয়টি উল্লেখ থাকবে। এছাড়াও, এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, তুলনামূলক কম আয়ের মানুষের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি ও ধনীদের ক্ষেত্রে তা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে খাতভিত্তিক স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ও এক মাস পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা, কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি, একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য বিষয়ক ডেটাবেস স্থাপন, জাতীয় ডিজিটাল সার্ভার প্রতিষ্ঠা এবং প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সুনির্দিষ্ট গুচ্ছ পরিকল্পনার কথাও থাকবে।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য মধ্যপাল্লার মিসাইল ও উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও ইশতেহারে স্থান পাবে। এছাড়া, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত বাহিনীগুলোর সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতিও দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক জনাকীর্ণ সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার সেই ২৪ দফার আলোকেই প্রণীত হবে বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মাঝেও হরমুজ প্রণালীতে রেকর্ড সংখ্যক জাহাজ চলাচল

জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার: ‘ইনসাফের রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাষ্ট্র, নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান—এই তিন স্তরে মৌলিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, তাদের ইশতেহারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে আধিপত্যবাদ মোকাবিলা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা জোরদার এবং সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা সংরক্ষণ ও বিকাশ। তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তিকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের সাথে যুক্ত করে এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইশতেহার প্রণয়নের জন্য এহতেশাম হককে প্রধান এবং ইশতিয়াক আকিবকে সাধারণ সম্পাদক করে আট সদস্যের একটি উপকমিটি গত ১৫ জানুয়ারি গঠিত হয়েছে। এই কমিটি বর্তমানে দলের নির্বাচনি ইশতেহারের খসড়া তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যদিও এটি এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

এনসিপির একাধিক নেতা তাদের দলের মূল লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই তাদের প্রধান অঙ্গীকার। এই রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক এবং সেবামুখী করে পুনর্গঠনের ওপর জোর দিচ্ছেন। এই উদ্দেশ্য সামনে রেখে একটি বাস্তবসম্মত, সময়োপযোগী ও সমাধানভিত্তিক ইশতেহার জাতির সামনে উপস্থাপনের জন্য দলটি প্রস্তুত হচ্ছে।

জানা গেছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে দলের ঘোষিত ২৪ দফা ইশতেহারের মধ্যে যে বিষয়গুলো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পূর্ণ করা সম্ভব, সেগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া জাতীয় বাজেটের সুষম বণ্টন, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা অর্জনের জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, ধনীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ এবং সরকারের আয় বৃদ্ধির বিভিন্ন কার্যকর পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে স্থান পাবে।

দলীয় সূত্রমতে, ইশতেহারে মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বার্ষিক আয় ও সম্পদের হিসাব একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রকাশ এবং নিয়মিত হালনাগাদ করার বিষয়টি উল্লেখ থাকবে। এছাড়াও, এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, তুলনামূলক কম আয়ের মানুষের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি ও ধনীদের ক্ষেত্রে তা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে খাতভিত্তিক স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ও এক মাস পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা, কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি, একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য বিষয়ক ডেটাবেস স্থাপন, জাতীয় ডিজিটাল সার্ভার প্রতিষ্ঠা এবং প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সুনির্দিষ্ট গুচ্ছ পরিকল্পনার কথাও থাকবে।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য মধ্যপাল্লার মিসাইল ও উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও ইশতেহারে স্থান পাবে। এছাড়া, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত বাহিনীগুলোর সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতিও দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক জনাকীর্ণ সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার সেই ২৪ দফার আলোকেই প্রণীত হবে বলে জানা গেছে।