বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী এবং বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত এই নেতার জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে দুই দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনসমূহ। দিবসটি উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে বিশেষ বাণী প্রদান করা হয়েছে।
জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ছিল ‘কমল’। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় জিয়ার শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় সময় কেটেছে কলকাতায়। ১৯৫৩ সালে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনার পাশাপাশি তার নেতৃত্বে গঠিত ‘জেড ফোর্স’ রণক্ষেত্রে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পরবর্তী সময়ে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২৫ আগস্ট তিনি সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আবির্ভূত হন। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তিত হয় এবং রুদ্ধদ্বার রাজনৈতিক পরিবেশ থেকে দেশ উন্মুক্ত রাজনীতিতে প্রবেশ করে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি শাহাদত বরণ করেন।
শহীদ জিয়া ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। ‘১৯ দফা’ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি দেশে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন। তার প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ এ দেশের মানুষের আত্মপরিচয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে তিনি পোশাক শিল্প ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের ভিত্তি স্থাপন করেন, যা বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদদের মতে, গত দেড় দশকে জিয়াউর রহমানের অবদানকে মুছে ফেলার নানামুখী চেষ্টা করা হয়েছে। তার বীরত্বগাথা ও রাজনৈতিক অর্জন নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিতর্ক সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালানো হলেও জনমানস থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিশেষ রাজনৈতিক পক্ষ তাকে ইতিহাসের খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করলেও ছাত্র-জনতার সাম্প্রতিক অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জিয়াউর রহমানের স্থান আজও অম্লান। তাদের মতে, যারা তাকে ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল, সময়ের আবর্তে তারাই আজ ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে।
জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ জিয়া ছিলেন দেশপ্রেম, সততা ও অনাড়ম্বর জীবনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার প্রদর্শিত পথেই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব। তিনি দেশবাসীকে শহীদ জিয়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
কর্মসূচি:
দিবসটি পালনে বিএনপি দুই দিনের বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ ১৯ জানুয়ারি সকালে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতির মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী বুধবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকরা বক্তব্য রাখবেন।
রিপোর্টারের নাম 

























