দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে এই মুহূর্তে বিএনপির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, একটি অশুভ চক্র পর্দার আড়াল থেকে ষড়যন্ত্র করছে যাতে বিএনপিকে ক্ষমতায় রেখে পরবর্তীতে আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা যায়। এই ধরনের চক্রান্ত দেশের জন্য চরম বিপদজনক।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী কার্যালয়ে ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, যারা রাজনীতির মাঠে ইসলামের দোহাই দেয়, তাদের অনেকেই অতীতে আদর্শের প্রশ্নে আপস করেছে। সীমান্তের ওপারে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে তাদের গোপন আঁতাতের অভিযোগ রয়েছে। বিএনপি কখনো ইসলামবিদ্বেষী কোনো কাজ করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিশেষ করে ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধে তার উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিল। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন, যা দেশের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল।
আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রবীণ এই নেতা বলেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার আদায়ের লড়াই। দেশ স্বাধীন থাকবে নাকি পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হবে, তা এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে আবদুস সালাম বলেন, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমান অত্যন্ত কঠোরভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন কোথাও কোনো ধরনের প্রতিহিংসা বা অরাজকতা না ঘটে। এটিই একজন দূরদর্শী ও প্রকৃত জননেতার পরিচয়। অথচ একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে যারা বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল, তারা আজও নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের অপর উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, শহীদ জিয়া কোনো ব্যক্তিগত লালসা থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রণাঙ্গনে লড়াই করেছেন এবং স্বাধীনতার পর সুশৃঙ্খলভাবে ব্যারাকে ফিরে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দেশের ক্রান্তিলগ্নে দায়িত্ব নিয়ে তিনি সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেন এবং ইসলামী মূল্যবোধকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তারেক রহমান আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন, যেখানে আলেম সমাজ ও ধর্মীয় শিক্ষা যথাযথ মর্যাদা পাবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ওলামা-মাশায়েখ ও ইমামদের উদ্দেশে আবদুস সালাম আহ্বান জানান, তারা যেন সাধারণ মানুষের কাছে সত্য তুলে ধরেন এবং দেশের কল্যাণে বিএনপির হাতকে শক্তিশালী করেন। সভায় বিএনপির উপদেষ্টা নাজিমুদ্দিন আলমসহ স্থানীয় ওলামা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শেষে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























