ঢাকা ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

জবিতে মাস্টার্স প্রফেশনাল প্রোগ্রামের নীতিমালা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক: শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪১:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের মাস্টার্স প্রফেশনাল প্রোগ্রামের নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক মহলে ব্যাপক বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম পরিবর্তন করে সহযোগী অধ্যাপকদের ‘প্রোগ্রাম ডিরেক্টর’ হওয়ার সুযোগ বাতিল করার এই সিদ্ধান্তকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টদের একটি বড় অংশ। অভিযোগ উঠেছে, গুটি কয়েক প্রভাবশালী অধ্যাপক আর্থিক সুবিধা ও প্রশাসনিক ক্ষমতা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেই পরিকল্পিতভাবে এই পরিবর্তন আনছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন প্রফেশনাল প্রোগ্রামে অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক—উভয় পদমর্যাদার শিক্ষকরাই ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারতেন। এই নিয়মের আওতায় দীর্ঘদিন ধরে সহযোগী অধ্যাপকরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এতে বিভাগে কাজের গতিশীলতা যেমন বজায় ছিল, তেমনি শিক্ষকদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও একটি ভারসাম্য ছিল।

তবে সম্প্রতি ওই নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে শুধুমাত্র অধ্যাপক পদমর্যাদার শিক্ষকরাই প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হতে পারবেন, যা থেকে সহযোগী অধ্যাপকদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে এই বিতর্কিত সংশোধনীটি অনুমোদিত হয়েছে এবং বর্তমানে এটি সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন শিক্ষকদের একটি বড় অংশ। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার মানোন্নয়ন বা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। মূলত মাস্টার্স প্রফেশনাল প্রোগ্রামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আর্থিক সম্মানী ও নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সহযোগী অধ্যাপকদের এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ফলে প্রশাসনিক ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ও শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক পেশাদারী সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

জবিতে মাস্টার্স প্রফেশনাল প্রোগ্রামের নীতিমালা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক: শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ

আপডেট সময় : ০২:৪১:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের মাস্টার্স প্রফেশনাল প্রোগ্রামের নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক মহলে ব্যাপক বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম পরিবর্তন করে সহযোগী অধ্যাপকদের ‘প্রোগ্রাম ডিরেক্টর’ হওয়ার সুযোগ বাতিল করার এই সিদ্ধান্তকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টদের একটি বড় অংশ। অভিযোগ উঠেছে, গুটি কয়েক প্রভাবশালী অধ্যাপক আর্থিক সুবিধা ও প্রশাসনিক ক্ষমতা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেই পরিকল্পিতভাবে এই পরিবর্তন আনছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন প্রফেশনাল প্রোগ্রামে অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক—উভয় পদমর্যাদার শিক্ষকরাই ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারতেন। এই নিয়মের আওতায় দীর্ঘদিন ধরে সহযোগী অধ্যাপকরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এতে বিভাগে কাজের গতিশীলতা যেমন বজায় ছিল, তেমনি শিক্ষকদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও একটি ভারসাম্য ছিল।

তবে সম্প্রতি ওই নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে শুধুমাত্র অধ্যাপক পদমর্যাদার শিক্ষকরাই প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হতে পারবেন, যা থেকে সহযোগী অধ্যাপকদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে এই বিতর্কিত সংশোধনীটি অনুমোদিত হয়েছে এবং বর্তমানে এটি সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন শিক্ষকদের একটি বড় অংশ। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার মানোন্নয়ন বা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। মূলত মাস্টার্স প্রফেশনাল প্রোগ্রামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আর্থিক সম্মানী ও নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সহযোগী অধ্যাপকদের এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ফলে প্রশাসনিক ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ও শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক পেশাদারী সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।