ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোট নিশ্চিত করতে সর্বদলীয় ঐক্যের আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশের আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকল রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া অপরিহার্য এবং এতে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি।

রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জামায়াতে ইসলামীর চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই আহ্বান জানান। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং রফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনের সময় উদ্ভূত যেকোনো বিরোধ নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এছাড়াও, নির্বাচন উপলক্ষে একটি বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু করার কথা জানানো হয়, যেখানে যেকোনো ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করা হবে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে। জামায়াতে ইসলামী গণভোটে “হ্যাঁ” এর পক্ষে প্রচারণা ইতিমধ্যেই শুরু করেছে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে পাশাপাশি দুটি প্রচারণার কাজ চলবে। জামায়াত নেতাদের পক্ষ থেকে নির্বাচন সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “যেভাবেই হোক, আমাদের একটি ভালো নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনব এবং প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান যে, নির্বাচন কেন্দ্রগুলোকে দ্রুত সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত আনা হবে এবং বেশিরভাগ কেন্দ্রে জানুয়ারির মধ্যেই ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হবে, যা কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে।

গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণার আইনগত বৈধতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্বই হলো সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, “এবারের ভোট ও গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন করতেই হবে। সকলে যাই বলুক না কেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচন কোনো প্রকার ত্রুটিপূর্ণ বা গোজামিলের নির্বাচন হবে না। একটি সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করার দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সকল রাজনৈতিক দলের। এ ব্যাপারে আমি সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি।”

বৈঠকে উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

২০২৬ সালের শান্তি নোবেলের দৌড়ে ২৮৭ প্রার্থী, আলোচনায় ট্রাম্পের নাম

সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোট নিশ্চিত করতে সর্বদলীয় ঐক্যের আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ১০:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকল রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া অপরিহার্য এবং এতে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি।

রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জামায়াতে ইসলামীর চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই আহ্বান জানান। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং রফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনের সময় উদ্ভূত যেকোনো বিরোধ নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এছাড়াও, নির্বাচন উপলক্ষে একটি বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু করার কথা জানানো হয়, যেখানে যেকোনো ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করা হবে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে। জামায়াতে ইসলামী গণভোটে “হ্যাঁ” এর পক্ষে প্রচারণা ইতিমধ্যেই শুরু করেছে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে পাশাপাশি দুটি প্রচারণার কাজ চলবে। জামায়াত নেতাদের পক্ষ থেকে নির্বাচন সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “যেভাবেই হোক, আমাদের একটি ভালো নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনব এবং প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান যে, নির্বাচন কেন্দ্রগুলোকে দ্রুত সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত আনা হবে এবং বেশিরভাগ কেন্দ্রে জানুয়ারির মধ্যেই ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হবে, যা কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে।

গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণার আইনগত বৈধতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্বই হলো সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, “এবারের ভোট ও গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন করতেই হবে। সকলে যাই বলুক না কেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচন কোনো প্রকার ত্রুটিপূর্ণ বা গোজামিলের নির্বাচন হবে না। একটি সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করার দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সকল রাজনৈতিক দলের। এ ব্যাপারে আমি সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি।”

বৈঠকে উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।