ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

শোকগাথা নয়, গড়তে হবে গণতন্ত্রের বিজয়গাথা: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ব্যর্থ হলে জাতিকে চিরকাল শোকের মধ্যেই নিমজ্জিত থাকতে হবে। তাই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সমৃদ্ধ আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আর শোক সমাবেশ নয়, বরং আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাথা রচনা করা।

রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই বিপ্লবের বীরত্বগাথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যারা রাজপথে আত্মত্যাগ করেছেন, তারা প্রত্যেকেই একেকজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন, ঠিক একইভাবে চব্বিশের যোদ্ধারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছেন। তাদের এই অসামান্য অবদান ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আন্দোলনে হতাহতদের কল্যাণে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে, তবে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ খোলা হবে। এই বিভাগের মূল দায়িত্ব হবে জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে দেখভাল করা। স্বজন হারানোর বেদনা অপূরণীয় হলেও তাদের পরিবারের কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্র সব সময় পাশে থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

বিগত দেড় দশকের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অসংখ্য মানুষ গুম, খুন ও পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কেবল জুলাই অভ্যুত্থানেই দেড় সহস্রাধিক মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্বসহ নানাভাবে আহত হয়েছেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে তিনি ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের এই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর ছিল না; বরং এটি ছিল ধর্ম-বর্ণ ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের এক সম্মিলিত সংগ্রাম। মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করাই ছিল এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং চিকিৎসাধীন আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর দোয়া প্রার্থনা করেন। তারেক রহমান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শহীদ ও আহতদের প্রতি দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: জনজীবন ও অর্থনীতিতে বহুমুখী প্রভাবের শঙ্কা

শোকগাথা নয়, গড়তে হবে গণতন্ত্রের বিজয়গাথা: তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ব্যর্থ হলে জাতিকে চিরকাল শোকের মধ্যেই নিমজ্জিত থাকতে হবে। তাই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সমৃদ্ধ আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আর শোক সমাবেশ নয়, বরং আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাথা রচনা করা।

রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই বিপ্লবের বীরত্বগাথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যারা রাজপথে আত্মত্যাগ করেছেন, তারা প্রত্যেকেই একেকজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন, ঠিক একইভাবে চব্বিশের যোদ্ধারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছেন। তাদের এই অসামান্য অবদান ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আন্দোলনে হতাহতদের কল্যাণে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে, তবে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ খোলা হবে। এই বিভাগের মূল দায়িত্ব হবে জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে দেখভাল করা। স্বজন হারানোর বেদনা অপূরণীয় হলেও তাদের পরিবারের কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্র সব সময় পাশে থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

বিগত দেড় দশকের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অসংখ্য মানুষ গুম, খুন ও পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কেবল জুলাই অভ্যুত্থানেই দেড় সহস্রাধিক মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্বসহ নানাভাবে আহত হয়েছেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে তিনি ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের এই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর ছিল না; বরং এটি ছিল ধর্ম-বর্ণ ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের এক সম্মিলিত সংগ্রাম। মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করাই ছিল এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং চিকিৎসাধীন আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর দোয়া প্রার্থনা করেন। তারেক রহমান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শহীদ ও আহতদের প্রতি দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।