ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

শহীদ জিয়া আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি ও এক অনুকরণীয় আদর্শ: মির্জা ফখরুল

আগামীকাল সোমবার মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাণীতে তিনি শহীদ জিয়াকে একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক এবং দেশপ্রেম ও সততার মূর্ত প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক, যাঁর জীবন ও কর্ম দেশবাসীর জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার মুখে তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধের ডাক দেন। ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণার মাধ্যমে তিনি দিকভ্রান্ত জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস জুগিয়েছিলেন। জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে রণাঙ্গনে তাঁর বীরত্বগাথা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর যখন দেশ চরম সংকটে নিমজ্জিত এবং মানুষের বাক-স্বাধীনতা রুদ্ধ ছিল, তখন ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে আসীন হন। তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। তাঁর প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ দর্শন আমাদের জাতিসত্তার সঠিক পরিচয় ফুটিয়ে তোলে এবং ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক অবিনাশী শক্তি হিসেবে কাজ করে।

দেশের উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনে শহীদ জিয়ার বৈপ্লবিক পদক্ষেপগুলোর কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয়ে তাঁর খাল খনন কর্মসূচি এবং পল্লী চিকিৎসক নিয়োগের মতো উদ্যোগগুলো গ্রামীণ জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে। এছাড়া আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষিণ এশীয় জোট ‘সার্ক’ গঠনের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিকে সুসংহত করেন।

শহীদ জিয়ার অনাড়ম্বর জীবনযাপন ও চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে মহাসচিব বলেন, মহৎ চরিত্র গঠনে শহীদ জিয়া বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শ আজও প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের হৃদয়ে অম্লান।

পরিশেষে, শহীদ রাষ্ট্রপতির ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা, ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় শহীদ জিয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় তাঁর প্রদর্শিত পথই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার মূল পাথেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: জনজীবন ও অর্থনীতিতে বহুমুখী প্রভাবের শঙ্কা

শহীদ জিয়া আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি ও এক অনুকরণীয় আদর্শ: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০৩:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

আগামীকাল সোমবার মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাণীতে তিনি শহীদ জিয়াকে একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক এবং দেশপ্রেম ও সততার মূর্ত প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক, যাঁর জীবন ও কর্ম দেশবাসীর জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার মুখে তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধের ডাক দেন। ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণার মাধ্যমে তিনি দিকভ্রান্ত জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস জুগিয়েছিলেন। জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে রণাঙ্গনে তাঁর বীরত্বগাথা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর যখন দেশ চরম সংকটে নিমজ্জিত এবং মানুষের বাক-স্বাধীনতা রুদ্ধ ছিল, তখন ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে আসীন হন। তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। তাঁর প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ দর্শন আমাদের জাতিসত্তার সঠিক পরিচয় ফুটিয়ে তোলে এবং ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক অবিনাশী শক্তি হিসেবে কাজ করে।

দেশের উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনে শহীদ জিয়ার বৈপ্লবিক পদক্ষেপগুলোর কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয়ে তাঁর খাল খনন কর্মসূচি এবং পল্লী চিকিৎসক নিয়োগের মতো উদ্যোগগুলো গ্রামীণ জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে। এছাড়া আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষিণ এশীয় জোট ‘সার্ক’ গঠনের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিকে সুসংহত করেন।

শহীদ জিয়ার অনাড়ম্বর জীবনযাপন ও চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে মহাসচিব বলেন, মহৎ চরিত্র গঠনে শহীদ জিয়া বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শ আজও প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের হৃদয়ে অম্লান।

পরিশেষে, শহীদ রাষ্ট্রপতির ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা, ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় শহীদ জিয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় তাঁর প্রদর্শিত পথই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার মূল পাথেয়।