বাংলাদেশে যদি নতুন কোনো অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয় এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করে, তবেই কেবল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এই রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করেন।
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের এটিই প্রথম প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলন। সংবাদ সম্মেলনে হাছান মাহমুদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং লন্ডন প্রবাসী আইনজীবী নিঝুম মজুমদার। মূলত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের দেওয়া রিপোর্টের বিভিন্ন ‘অসংগতি’ তুলে ধরতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি করেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টে তথ্যগত, আইনগত ও পদ্ধতিগত ব্যাপক ভুল রয়েছে। বিশেষ করে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে নিহতের সংখ্যা নিয়ে যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে, তাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিক্ষোভকারীদের হাতে পুলিশ সদস্যদের নিহতের বিষয়টি রিপোর্টে যথাযথভাবে উঠে আসেনি। তবে জুলাই আন্দোলনে শত শত হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগ ক্ষমা চাইবে কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে দলটির নেতারা সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের এই প্রকাশ্য উপস্থিতি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সংবাদ সম্মেলন করার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি থাকলেও, এবার বেলজিয়াম প্রবাসী হাছান মাহমুদ ও লন্ডন প্রবাসী নিঝুম মজুমদারকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ মূলত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এল।
দিল্লির জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এই দীর্ঘ দুই ঘণ্টার সম্মেলনে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস রিসার্চ ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষে জাতিসংঘের রিপোর্টের পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগ নেতারা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করলেও দলের রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং আন্তর্জাতিক মহলে লবিং চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাওয়া গেল।
রিপোর্টারের নাম 

























