আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি সাধারণ ভোটারদের মনে সাহস ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক অনিবার্য বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনকালীন সহিংসতা, বুথ দখল এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতের যে কালো অধ্যায় রয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য একটি নিরপেক্ষ ও সুশৃঙ্খল বাহিনীর প্রয়োজন এখন সময়ের দাবি। নাগরিকেরা যখন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তায় ভোগেন, তখন সেনাবাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি তাঁদের মনে এই বিশ্বাস জোগায় যে, তাঁদের ভোটাধিকার সত্যিই সুরক্ষিত থাকবে।
সেনাবাহিনীর ওপর জনগণের এই অগাধ আস্থার মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের পেশাদারিত্ব ও সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইতিহাস। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা থেকে শুরু করে বৈশ্বিক শান্তি রক্ষা মিশনে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখা এই বাহিনী রাজনৈতিক উত্তাপের সময় সাধারণ মানুষের কাছে আশ্বাসের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হয়। যখন মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়, তখন সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষ অবস্থান ভোটারদের ঘর থেকে বের হয়ে নির্ভয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা হবে মূলত বেসামরিক প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সহায়ক শক্তি হিসেবে। সংবিধানের আলোকে নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা, সহিংসতার আশঙ্কা রোধ এবং ভীতিমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখাই হবে এই বাহিনীর মূল চ্যালেঞ্জ। সেনাবাহিনীর কাজ কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করা নয়, বরং এমন একটি সমতল ক্ষেত্র (Level Playing Field) তৈরি করা যেখানে প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনভাবে তাঁর মতামত প্রকাশ করতে পারেন। এই স্বচ্ছতা বজায় থাকলেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের হারানো আস্থা পুনরায় ফিরে আসা সম্ভব।
নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় সিদ্ধান্তের সাথে সেনাবাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমই পারে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করতে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল জনপদে নিরপেক্ষ নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে এবং সহিংসতা কমিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশেও যদি সেনাবাহিনী তাদের শৃঙ্খলা ও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিতে পারে, তবে তারা কেবল একটি বাহিনী হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্রের শক্তিশালী সহায়ক শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে আস্থার যে সেতু নির্মিত হবে, তার অন্যতম কারিগর হিসেবে সেনাবাহিনী নিঃসন্দেহে ইতিহাসের পাতায় ভোটারদের আস্থার প্রতীক হয়ে থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 

























