ঢাকা ১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা-১৭ আসন: তারেক রহমানের প্রার্থিতায় পাল্টে গেছে ভোটের সব সমীকরণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সবচেয়ে ‘ভিআইপি’ আসন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-বারিধারা) এখন রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তারেক রহমান দেশে ফিরে এই আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর নির্বাচনী মাঠে এক বিশাল গুণগত পরিবর্তন এসেছে। বিএনপি প্রধানের এই অংশগ্রহণ কেবল স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই নয়, বরং বিত্তশালী অভিজাত শ্রেণি থেকে শুরু করে কড়াইল বা সাততলা বস্তির শ্রমজীবী মানুষের মাঝেও তৈরি করেছে বিশেষ কৌতূহল ও উদ্দীপনা।


বিএনপি ও জামায়াতের দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া এই আসনে তারেক রহমানের উপস্থিতিতে নির্বাচনী মেরুকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভোটারদের প্রত্যাশা, আগামীতে দেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী যদি এই আসনের প্রতিনিধি হন, তবে এলাকার নিরাপত্তা ও অনুন্নত বসতিগুলোর দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
আভিজাত্য বনাম শ্রমজীবী: ভোটের বৈচিত্র্যময় ভূগোল ঢাকা-১৭ আসনটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ। একদিকে যেমন গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকা রয়েছে যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের বসবাস; অন্যদিকে মহাখালী ও ভাষানটেকের বিশাল বস্তি এলাকাগুলোতে রয়েছে কয়েক লাখ শ্রমজীবী মানুষের ভিড়। নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে জয়ী হতে হলে যেমন আভিজাত্য রক্ষা করে উচ্চবিত্তের মন জয় করতে হবে, ঠিক তেমনি বস্তিবাসী দিনমজুর ও রিকশাচালকদের সমর্থনও নিশ্চিত করতে হবে। কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা আশাবাদী যে, তারেক রহমান বিজয়ী হলে বারবার অগ্নিকাণ্ডের শিকার হওয়া এই জনপদের ভাগ্য বদলাবে।

বিএনপি ও জামায়াতের শক্ত অবস্থান: শুরুতে এই আসনে আন্দালিব রহমান পার্থ ও জামায়াত প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামানের মধ্যে লড়াইয়ের গুঞ্জন থাকলেও তারেক রহমানের আগমনে সব হিসাব নিকাশ পাল্টে গেছে। পার্থ ভোলা-১ আসনে চলে যাওয়ায় এখানে ধানের শীষের জোয়ার তৈরি হয়েছে। তবে জামায়াত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান দমে না গিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জামায়াত নেতাদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তাদের জনসমর্থন বেড়েছে এবং নতুন প্রজন্মের ভোটারদের একটি বড় অংশ ‘দাঁড়িপাল্লা’র প্রতি আগ্রহী। অন্যদিকে, বিএনপি নেতা আবদুস সালামের নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ২১ জানুয়ারির পর পুরোদমে প্রচারণার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তরুণ ও পেশাজীবী ভোটারদের চাওয়া: এখানকার শিক্ষিত ও তরুণ ভোটাররা কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, বরং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ও মেধা পাচার রোধে প্রার্থীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেখে ভোট দিতে চান। গুলশান-বনানীর বাড়ির মালিকরা এলাকার কঠোর নিরাপত্তা ও আধুনিক নাগরিক সুবিধার ওপর জোর দিচ্ছেন। এছাড়া বাইসাইকেল প্রতীকে তপু রায়হান (জেপি), বিজেপি থেকে কামরুল হাসান নাসিম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী এনায়েত উল্লাহও লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর চূড়ান্তভাবে জানা যাবে ঢাকার এই ধনাঢ্য আসনে শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী থাকে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশীয় টেলিকম খাত ধ্বংসের ব্লুপ্রিন্ট: নতুন লাইসেন্সিং নীতিমালার ব্যবচ্ছেদ

ঢাকা-১৭ আসন: তারেক রহমানের প্রার্থিতায় পাল্টে গেছে ভোটের সব সমীকরণ

আপডেট সময় : ১২:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সবচেয়ে ‘ভিআইপি’ আসন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-বারিধারা) এখন রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তারেক রহমান দেশে ফিরে এই আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর নির্বাচনী মাঠে এক বিশাল গুণগত পরিবর্তন এসেছে। বিএনপি প্রধানের এই অংশগ্রহণ কেবল স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই নয়, বরং বিত্তশালী অভিজাত শ্রেণি থেকে শুরু করে কড়াইল বা সাততলা বস্তির শ্রমজীবী মানুষের মাঝেও তৈরি করেছে বিশেষ কৌতূহল ও উদ্দীপনা।


বিএনপি ও জামায়াতের দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া এই আসনে তারেক রহমানের উপস্থিতিতে নির্বাচনী মেরুকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভোটারদের প্রত্যাশা, আগামীতে দেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী যদি এই আসনের প্রতিনিধি হন, তবে এলাকার নিরাপত্তা ও অনুন্নত বসতিগুলোর দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
আভিজাত্য বনাম শ্রমজীবী: ভোটের বৈচিত্র্যময় ভূগোল ঢাকা-১৭ আসনটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ। একদিকে যেমন গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকা রয়েছে যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের বসবাস; অন্যদিকে মহাখালী ও ভাষানটেকের বিশাল বস্তি এলাকাগুলোতে রয়েছে কয়েক লাখ শ্রমজীবী মানুষের ভিড়। নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে জয়ী হতে হলে যেমন আভিজাত্য রক্ষা করে উচ্চবিত্তের মন জয় করতে হবে, ঠিক তেমনি বস্তিবাসী দিনমজুর ও রিকশাচালকদের সমর্থনও নিশ্চিত করতে হবে। কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা আশাবাদী যে, তারেক রহমান বিজয়ী হলে বারবার অগ্নিকাণ্ডের শিকার হওয়া এই জনপদের ভাগ্য বদলাবে।

বিএনপি ও জামায়াতের শক্ত অবস্থান: শুরুতে এই আসনে আন্দালিব রহমান পার্থ ও জামায়াত প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামানের মধ্যে লড়াইয়ের গুঞ্জন থাকলেও তারেক রহমানের আগমনে সব হিসাব নিকাশ পাল্টে গেছে। পার্থ ভোলা-১ আসনে চলে যাওয়ায় এখানে ধানের শীষের জোয়ার তৈরি হয়েছে। তবে জামায়াত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান দমে না গিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জামায়াত নেতাদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তাদের জনসমর্থন বেড়েছে এবং নতুন প্রজন্মের ভোটারদের একটি বড় অংশ ‘দাঁড়িপাল্লা’র প্রতি আগ্রহী। অন্যদিকে, বিএনপি নেতা আবদুস সালামের নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ২১ জানুয়ারির পর পুরোদমে প্রচারণার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তরুণ ও পেশাজীবী ভোটারদের চাওয়া: এখানকার শিক্ষিত ও তরুণ ভোটাররা কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, বরং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ও মেধা পাচার রোধে প্রার্থীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেখে ভোট দিতে চান। গুলশান-বনানীর বাড়ির মালিকরা এলাকার কঠোর নিরাপত্তা ও আধুনিক নাগরিক সুবিধার ওপর জোর দিচ্ছেন। এছাড়া বাইসাইকেল প্রতীকে তপু রায়হান (জেপি), বিজেপি থেকে কামরুল হাসান নাসিম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী এনায়েত উল্লাহও লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর চূড়ান্তভাবে জানা যাবে ঢাকার এই ধনাঢ্য আসনে শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী থাকে।