লক্ষ্মীপুরে রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িয়ে পড়া জামায়াত ও বিএনপি নেতাকর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এই ঘটনায় জামায়াতের মামলায় ১৭০ জন এবং বিএনপির মামলায় ২১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম রবিবার সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চরশাহী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি হেজবুল্লাহ সোহেল একটি হামলার অভিযোগ এনে ১৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত ১৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, একই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চরশাহী ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে একটি পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চরশাহী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বটগাছতলা এলাকায়। সেখানে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যার ফলে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় দুই দলই একে অপরকে দোষারোপ করছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াত নেতা মোহাম্মদ রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, “আমাদের মহিলা কর্মীদের কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। বিষয়টি মীমাংসা হওয়ার পরও তারা পুনরায় আমাদের পুরুষ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “জামায়াতের লোকজন ভোটারদের কাছ থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করছিল, যেখান থেকে ঘটনার সূত্রপাত। তবে উভয়পক্ষের মধ্যেই অপরাধপ্রবণতা দেখা দিয়েছে। আমি শুধু বিএনপির আহত কর্মীদেরই নয়, হাসপাতালে জামায়াতের কর্মীদেরও দেখতে গিয়েছি এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রশাসনের প্রতি আমার আহ্বান, একটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক।”
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানিয়েছেন, “চরশাহীতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মারামারির ঘটনায় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।”
রিপোর্টারের নাম 






















