ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কঠোর পদক্ষেপ: ওসমানীনগরে ৩ প্রকল্পের কার্যাদেশ বাতিল, ঠিকাদারের জামানত বাজেয়াপ্ত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শুরু করতে ব্যর্থ হওয়ায় সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তিনটি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি কার্যাদেশ বাতিল করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম)। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে গতি আনতে এবং চুক্তির শর্ত পালনে বাধ্য করতে কর্তৃপক্ষের এই কঠোর অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় “গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে সিলেটের অ্যাম্বরখানা এলাকার মেসার্স ফাহাদ কনস্ট্রাকশনকে এই কাজ দেওয়া হয়েছিল। একটি মাত্র কার্যাদেশের মাধ্যমে বিশ্বনাথ উপজেলায় দুটি এবং ওসমানীনগরে তিনটি, মোট পাঁচটি সেতু/কালভার্ট নির্মাণের কথা ছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কেবল বিশ্বনাথের দুটি কালভার্টের কাজ শুরু করলেও ওসমানীনগরের তিনটি প্রকল্পের নির্মাণ কাজ নানা অজুহাতে এখনো শুরু করেনি। এ কারণেই অধিদপ্তর ওসমানীনগরের প্রকল্পগুলোর কার্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্মসচিব মো. পারভেজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কার্যাদেশ অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষ হবে এবং এর মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন করে বিল উত্তোলন করার কথা। কিন্তু কার্যাদেশ দেওয়ার পরও অদ্যাবধি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ শুরু না করাকে চুক্তির শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল, কিন্তু তাতেও কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

কার্যাদেশের শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় পক্ষ কোনো আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবে না এবং দায়ের করা হলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না। কাজ শুরু না করায় কার্যাদেশ ও চুক্তি বাতিলসহ জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টিকে অতীব জরুরি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মেসার্স ফাহাদ কনস্ট্রাকশনের ওসমানীনগর প্রতিনিধি জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন মহলের দ্বিমুখী সিদ্ধান্তের কারণে প্রকল্পের এই বেহাল দশা হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আজকালের মধ্যেই প্রকল্পের লেআউট করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ওসমানীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কান্তি দাস জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না করায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঠিকাদারি কার্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া গ্রহণে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাঙামাটিতে এনসিপির ৭ নেতার পদত্যাগ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কঠোর পদক্ষেপ: ওসমানীনগরে ৩ প্রকল্পের কার্যাদেশ বাতিল, ঠিকাদারের জামানত বাজেয়াপ্ত

আপডেট সময় : ০৩:১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শুরু করতে ব্যর্থ হওয়ায় সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তিনটি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি কার্যাদেশ বাতিল করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম)। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে গতি আনতে এবং চুক্তির শর্ত পালনে বাধ্য করতে কর্তৃপক্ষের এই কঠোর অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় “গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে সিলেটের অ্যাম্বরখানা এলাকার মেসার্স ফাহাদ কনস্ট্রাকশনকে এই কাজ দেওয়া হয়েছিল। একটি মাত্র কার্যাদেশের মাধ্যমে বিশ্বনাথ উপজেলায় দুটি এবং ওসমানীনগরে তিনটি, মোট পাঁচটি সেতু/কালভার্ট নির্মাণের কথা ছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কেবল বিশ্বনাথের দুটি কালভার্টের কাজ শুরু করলেও ওসমানীনগরের তিনটি প্রকল্পের নির্মাণ কাজ নানা অজুহাতে এখনো শুরু করেনি। এ কারণেই অধিদপ্তর ওসমানীনগরের প্রকল্পগুলোর কার্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্মসচিব মো. পারভেজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কার্যাদেশ অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষ হবে এবং এর মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন করে বিল উত্তোলন করার কথা। কিন্তু কার্যাদেশ দেওয়ার পরও অদ্যাবধি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ শুরু না করাকে চুক্তির শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল, কিন্তু তাতেও কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

কার্যাদেশের শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় পক্ষ কোনো আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবে না এবং দায়ের করা হলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না। কাজ শুরু না করায় কার্যাদেশ ও চুক্তি বাতিলসহ জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টিকে অতীব জরুরি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মেসার্স ফাহাদ কনস্ট্রাকশনের ওসমানীনগর প্রতিনিধি জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন মহলের দ্বিমুখী সিদ্ধান্তের কারণে প্রকল্পের এই বেহাল দশা হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আজকালের মধ্যেই প্রকল্পের লেআউট করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ওসমানীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কান্তি দাস জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না করায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঠিকাদারি কার্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া গ্রহণে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে।