বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে বিএনপির আলোচিত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম ঋণ খেলাপির দায়ে তার নির্বাচনী ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সম্প্রতি দুটি পৃথক রায়ে তাকে ঋণ খেলাপি সাব্যস্ত করায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১৮ জানুয়ারি (রোববার) তার আপিল শুনানির পর এ বিষয়ে আরও স্পষ্টতা আসতে পারে।
জানা গেছে, এক্সিম ব্যাংক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করায় কাজী রফিকুল ইসলাম শত শত কোটি টাকার ঋণ খেলাপির তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে শুধু এক্সিম ব্যাংকের কাছে তার ৭৬৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে।
এর আগে কাজী রফিকের পক্ষে উচ্চ আদালত থেকে স্টে অর্ডার নেওয়া হয়েছিল, যার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংককে সিআইবি প্রতিবেদনে তাকে ঋণ খেলাপি হিসেবে না দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখার ব্যবস্থাপক বাদী হয়ে কাজী রফিকুল ইসলামসহ অন্যদের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে রায় দেন। এর ফলে হাইকোর্টের যে আদেশ তার পক্ষে ছিল, তার কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে যায় এবং তিনি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কাছে আবারও ঋণ খেলাপি হিসেবে সাব্যস্ত হন।
একইভাবে, গত ৮ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) এক্সিম ব্যাংকও আপিল বিভাগে কাজী রফিকের পক্ষে নেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। শুনানি শেষে আদালত সেই রায়ও বাতিল করে দেন। এর ফলে কাজী রফিক দুটি ব্যাংকের কাছেই ঋণ খেলাপি গ্রাহক হিসেবে বিবেচিত হলেন।
আইনগতভাবে ঋণ খেলাপি হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দল হিসেবে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, কারণ একই আসনে বিএনপির অন্য একজন মনোনীত প্রার্থী, বগুড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির রয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 























