রাজধানী ঢাকার বুকে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হলো, যেখানে স্বজনহারা মানুষের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের বাতাস। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদ শুনে নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শনিবার ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এবং ‘মায়ের ডাক’—এই দুই সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে গুম ও খুনের শিকার নেতা-কর্মীদের স্বজনদের নিয়ে এক বিশেষ সম্মিলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনেন তারেক রহমান। এ সময় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্তানদের হাহাকার ও তাদের মায়েদের আহাজারি উপস্থিত সবার চোখে জল এনে দেয়। বিশেষ করে, বাবার জন্য ছোট্ট শিশুদের আকুতি শুনে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা নিজেও কান্নায় ভেঙে পড়েন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভুক্তভোগী মায়েরা তাদের হারানো সন্তানদের ফিরে পাওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষার কথা তুলে ধরেন। তাদের মধ্যে একজনকে দেখা যায় অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে নিজের আর্তনাদ ব্যক্ত করতে। নিখোঁজ স্বজনদের ফেরার আশায় দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পথ চেয়ে থাকা এই পরিবারগুলোর বেদনা এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
এমনই এক শোকাবহ গল্প উঠে আসে বংশাল থানা ছাত্রদলের সাবেক নেতা পারভেজ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে। ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন পারভেজ। দীর্ঘ ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও তার সন্ধান পায়নি পরিবার। তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার এবং তাদের ছোট্ট মেয়ে আদিবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা আজও প্রিয় মানুষটির ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। বাবার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বড় হওয়া আদিবার কান্না ও আকুতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করে যায়।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফিরে পাওয়ার দাবি এবং এই অমানবিক ঘটনার বিচার চেয়ে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে ‘মায়ের ডাক’সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। এদিনের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বিভেদ ছাপিয়ে মুখ্য হয়ে ওঠে স্বজনহারা মানুষের মানবিক হাহাকার। প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার এক ক্ষীণ আশা আর বিচার পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
রিপোর্টারের নাম 






















