আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় নিয়েছে। জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জোটের ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, নির্বাচনী ঐক্যের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যাতে পুনরায় জোটে ফিরে আসে, সেজন্য তারা শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। তবে যদি তারা ফিরে না আসে, সেক্ষেত্রে জোটভুক্ত অন্য দলগুলো বাকি ৪৭টি আসনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নির্বাচনী সফর এবং নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও জোটের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাতে জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে ২৫৩টি আসনে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল। সেই সমঝোতা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জোটের অন্য শরিকদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি এবং এলডিপি ৭টি আসনে লড়ার কথা রয়েছে। এছাড়া এবি পার্টি ৩টি, বিডিপি ২টি এবং নেজাম ইসলাম পার্টি ২টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছিল।
তবে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তারা ২৬৮টি আসনে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বাকি ৩২টি আসনে সমমনা প্রার্থীদের সমর্থনের কথা জানায়। মূলত এই ঘটনার পরেই জামায়াত তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে জরুরি বৈঠকে বসে।
এদিকে, আজকের বৈঠক থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ওলি আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
রিপোর্টারের নাম 






















