ঢাকা ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনি প্রচার কৌশল ও রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা চূড়ান্ত করছে জামায়াত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার ও নির্বাচনি রণকৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার সকাল নয়টা থেকে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এই বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়। দিনব্যাপী চলা এই বৈঠকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিনির্ধারণী প্রস্তাবনা ও নির্বাচনি ইশতেহারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের বিরতিতে বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি জানান, দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নায়েবে আমির ও সেক্রেটারি জেনারেলসহ নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, একটি আধুনিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিশেষজ্ঞ টিমের প্রস্তুত করা ‘পলিসি পেপার’ বৈঠকে পেশ করা হয়েছে। এই রূপরেখাটি চূড়ান্ত হওয়ার পর তা দলের পক্ষ থেকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ ছাড়া বৈঠকে দলের নির্বাচনি ইশতেহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যা খুব শীঘ্রই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।

নির্বাচনি প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা কোন জেলায় কখন সফর করবেন এবং প্রচার কার্যক্রমে অংশ নেবেন, তার একটি খসড়া তালিকা ও সময়সূচি এই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সময় স্বল্পতার কারণে এক বৈঠকেই অনেকগুলো এজেন্ডা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ছাড়া জোটগত রাজনীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনি ঐক্যের বিষয়ে জামায়াতের দরজা সবসময় খোলা। বিশেষ করে ১১ দলীয় জোটে অন্য কোনো ইসলামী দল আসার সম্ভাবনা বা রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়টি সময় সাপেক্ষে স্পষ্ট হবে।

বাকি থাকা ৪৭টি আসনে প্রার্থী দেওয়া বা লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। মূলত নির্বাচনি আমেজ তৈরি এবং রাষ্ট্র সংস্কারের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা নিয়ে জনমানুষের কাছে পৌঁছানোই এখন দলটির মূল লক্ষ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সার্ক পুনরুজ্জীবন, আঞ্চলিক শান্তি ও বৈশ্বিক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

নির্বাচনি প্রচার কৌশল ও রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা চূড়ান্ত করছে জামায়াত

আপডেট সময় : ০৬:২৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার ও নির্বাচনি রণকৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার সকাল নয়টা থেকে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এই বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়। দিনব্যাপী চলা এই বৈঠকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিনির্ধারণী প্রস্তাবনা ও নির্বাচনি ইশতেহারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের বিরতিতে বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি জানান, দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নায়েবে আমির ও সেক্রেটারি জেনারেলসহ নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, একটি আধুনিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিশেষজ্ঞ টিমের প্রস্তুত করা ‘পলিসি পেপার’ বৈঠকে পেশ করা হয়েছে। এই রূপরেখাটি চূড়ান্ত হওয়ার পর তা দলের পক্ষ থেকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ ছাড়া বৈঠকে দলের নির্বাচনি ইশতেহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যা খুব শীঘ্রই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।

নির্বাচনি প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা কোন জেলায় কখন সফর করবেন এবং প্রচার কার্যক্রমে অংশ নেবেন, তার একটি খসড়া তালিকা ও সময়সূচি এই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সময় স্বল্পতার কারণে এক বৈঠকেই অনেকগুলো এজেন্ডা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ছাড়া জোটগত রাজনীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনি ঐক্যের বিষয়ে জামায়াতের দরজা সবসময় খোলা। বিশেষ করে ১১ দলীয় জোটে অন্য কোনো ইসলামী দল আসার সম্ভাবনা বা রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়টি সময় সাপেক্ষে স্পষ্ট হবে।

বাকি থাকা ৪৭টি আসনে প্রার্থী দেওয়া বা লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। মূলত নির্বাচনি আমেজ তৈরি এবং রাষ্ট্র সংস্কারের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা নিয়ে জনমানুষের কাছে পৌঁছানোই এখন দলটির মূল লক্ষ্য।