সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে দয়ামীর কোনাপাড়া এলাকায় ঘন কুয়াশার মধ্যে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস। একই সময়ে ঢাকা থেকে সিলেটগামী এনা পরিবহনের অপর একটি বাসের সাথে দয়ামীর কোনাপাড়া এলাকায় বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় শ্যামলী পরিবহনের বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
নিহতদের মধ্যে একজন শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার দশাই হাওলাদার গ্রামের মুজিবুর রহমান (৫৫)। অপরজন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার করুয়া এলাকার বকুল রবিদাশ (২৬)। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় সড়কে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা অনেক কম ছিল। এতে চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাস দুটি পরস্পরের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনাকবলিত দয়ামীর কোনাপাড়া এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। এর আগেও এই স্থানে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংঘর্ষে বাবা ও মেয়ের প্রাণহানির মতো ঘটনাও রয়েছে। বারবার দুর্ঘটনার পরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে। নিহতদের মরদেহ এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
রিপোর্টারের নাম 























