ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

জামালপুর-৩: একাধিক প্রার্থীর স্ত্রীও কোটিপতি, কারও সম্পদ স্বামীর চেয়ে বেশি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামালপুর-৩ (মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ) আসনের প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে তাদের সম্পদের চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। দেখা গেছে, এই আসনের একাধিক প্রার্থী যেমন কোটিপতি, তেমনি তাদের স্ত্রীরাও বিপুল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ স্বামীর চেয়েও কয়েক গুণ বেশি। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র ও হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।

এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ২ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার ৯৫৪ টাকার সম্পদ রয়েছে। তবে তার ব্যবসায়ী স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ স্বামীর চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি; তার স্ত্রীর স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৪ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৪৩ টাকার সম্পদ রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, বাবুলের বার্ষিক আয় ৩২ লাখ ১৬ হাজার ৮৫ টাকা, যা তিনি ব্যবসা, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য উৎস থেকে পান। তার হাতে নগদ ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১০টি অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৪১ লাখ ১ হাজার ৪৬ টাকা জমা আছে। এছাড়া, তার কাছে ১৪ হাজার ৫৬২ মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে। বন্ড, ঋণপত্র, শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার এবং অংশীদারি ফার্ম জিলানী প্রিন্টিং অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজে (৫০ শতাংশ অংশ) তার বিনিয়োগের পরিমাণ ১১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০১ টাকা। তামান্না ফার্মেসিতে তার বিনিয়োগ ৫ লাখ ১৫ হাজার ৯৭২ টাকা এবং ডিপোজিট ও ডাক সঞ্চয়পত্রে ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি তার স্ত্রীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঋণও নিয়েছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ দৌলতুজ্জামান আনছারীর হলফনামায়ও বিপুল সম্পদের চিত্র দেখা গেছে। জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেওয়া এই প্রার্থীর স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৭ কোটি ৭৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬৩ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা স্ত্রীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণও কম নয়, ৬ কোটি ১০ লাখ ৫৭ হাজার ১০৬ টাকা। দৌলতুজ্জামান আনছারীর কৃষি খাত, বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া এবং ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৮২ হাজার ৬০৩ টাকা। তার হাতে নগদ রয়েছে ১ কোটি ৬৯ লাখ ২০ হাজার ১৫৫ টাকা।

এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভকেও কোটিপতি হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদীর স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৫২ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সপ্তাহান্তে বৃষ্টিতে ভিজবে দেশের পাঁচ বিভাগ: আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস

জামালপুর-৩: একাধিক প্রার্থীর স্ত্রীও কোটিপতি, কারও সম্পদ স্বামীর চেয়ে বেশি

আপডেট সময় : ০১:০১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামালপুর-৩ (মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ) আসনের প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে তাদের সম্পদের চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। দেখা গেছে, এই আসনের একাধিক প্রার্থী যেমন কোটিপতি, তেমনি তাদের স্ত্রীরাও বিপুল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ স্বামীর চেয়েও কয়েক গুণ বেশি। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র ও হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।

এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ২ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার ৯৫৪ টাকার সম্পদ রয়েছে। তবে তার ব্যবসায়ী স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ স্বামীর চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি; তার স্ত্রীর স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৪ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৪৩ টাকার সম্পদ রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, বাবুলের বার্ষিক আয় ৩২ লাখ ১৬ হাজার ৮৫ টাকা, যা তিনি ব্যবসা, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য উৎস থেকে পান। তার হাতে নগদ ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১০টি অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৪১ লাখ ১ হাজার ৪৬ টাকা জমা আছে। এছাড়া, তার কাছে ১৪ হাজার ৫৬২ মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে। বন্ড, ঋণপত্র, শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার এবং অংশীদারি ফার্ম জিলানী প্রিন্টিং অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজে (৫০ শতাংশ অংশ) তার বিনিয়োগের পরিমাণ ১১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০১ টাকা। তামান্না ফার্মেসিতে তার বিনিয়োগ ৫ লাখ ১৫ হাজার ৯৭২ টাকা এবং ডিপোজিট ও ডাক সঞ্চয়পত্রে ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি তার স্ত্রীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঋণও নিয়েছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ দৌলতুজ্জামান আনছারীর হলফনামায়ও বিপুল সম্পদের চিত্র দেখা গেছে। জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেওয়া এই প্রার্থীর স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৭ কোটি ৭৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬৩ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা স্ত্রীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণও কম নয়, ৬ কোটি ১০ লাখ ৫৭ হাজার ১০৬ টাকা। দৌলতুজ্জামান আনছারীর কৃষি খাত, বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া এবং ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৮২ হাজার ৬০৩ টাকা। তার হাতে নগদ রয়েছে ১ কোটি ৬৯ লাখ ২০ হাজার ১৫৫ টাকা।

এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভকেও কোটিপতি হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদীর স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৫২ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।