ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার ১৬ দিন পর একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ গ্রামের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন রোকেয়া বেগম ও তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে ফাতেমা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে রোকেয়া বেগম ও তার মেয়ে ফাতেমা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘ সময় তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে রোকেয়া বেগমের স্বামী শাহীন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ ও স্বজনরা তাদের সন্ধানে তৎপরতা চালাচ্ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তারের বন্ধ ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। একপর্যায়ে মিমের ঘরের খাটের নিচ থেকে রোকেয়া বেগমের মরদেহ এবং বাথরুমের ফলস ছাদ থেকে কিশোরী ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ১৬ দিন অতিবাহিত হওয়ায় মরদেহ দুটি প্রায় কঙ্কালসার ও অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, নিখোঁজ হওয়ার দিন অর্থাৎ ২৬ ডিসেম্বরই মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তার, তার স্বামী হুমায়ুন এবং মিমের দুই বোনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে নিবিড় তদন্ত চলছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























